কাতালোনিয়ার সাবেক বিদ্রোহী প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ত অবশেষে স্পেনে ফেরার আইনি বাধা দূর হলো। স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক রায়ে জানিয়েছে, প্রায় এক দশক আগে ব্যর্থ স্বাধীনতা প্রচেষ্টার পর স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যাওয়া পুইগডেমন্ত এখন গ্রেপ্তারির আশঙ্কা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন। ২০১৭ সালে মাদ্রিদের নির্দেশ অমান্য করে তাঁর আঞ্চলিক সরকার যে গণভোট আয়োজন করেছিল, তার সঙ্গে যুক্ত গ্রেপ্তারির পরোয়ানাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে আদালত।

স্মরণীয় যে, সেই গণভোটের পরপরই ওই অঞ্চলে সরাসরি শাসন জারি করা হয় এবং পুইগডেমন্ত বেলজিয়ামে পালিয়ে যান। সেখানে অবস্থান করলেও ২০২৪ সালে বার্সেলোনায় তাঁর এক আকস্মিক উপস্থিতির পর পুলিশ তাঁকে খোঁজার চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে বর্তমান স্পেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দশ বছর আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তিত। এখন কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না; বরং আবাসন এবং অভিবাসন সমস্যা এখন প্রধান আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

স্প্যানিশ বিচার বিভাগ এবং সাবেক এই প্রেসিডেন্টের মধ্যে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এই রায়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো। ২০২৪ সালে স্পেনের সমাজতান্ত্রিক সরকার কাতালোনিয়ার বেশ কিছু নেতা ও অ্যাক্টিভিস্টের জন্য বিতর্কিত ক্ষমার ঘোষণা দিলেও, সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে পুইগডেমন্ত ও তাঁর সহকর্মীদের এর বাইরে রাখার কথা বলেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে আর্থিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে সাংবিধানিক আদালত সেই ব্যাখ্যার বিপরীতে রায় দেয়। পরবর্তীতে অতি-ডানপন্থী ভক্স পার্টি এই পরোয়ানা বাতিলের বিরুদ্ধে যে আপিল করেছিল, সোমবার তা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে পুইগডেমন্তের পাশাপাশি তাঁর সাবেক মন্ত্রী লুইস পুইগ এবং টনি কমিনেরও স্পেনে ফেরার পথ খুলে গেল।

রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় পুইগডেমন্ত ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে কাতালোনিয়ার কেন্দ্র-ডানপন্থী দল 'টুগেদার ফর কাতালোনিয়া' (JxCat)-এর নেতা হিসেবে আঞ্চলিক পার্লামেন্টে জায়গা করে নেন। নির্বাসিত অবস্থায় তিনি দক্ষিণ ফ্রান্সে বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং ইউরোপজুড়ে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে স্পেনের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তীব্র সমালোচনা করতেন। আদালত রায় দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিওতে তিনি জানান, তাঁর লক্ষ্য ছিল জনমত তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক মহলে স্পেনের প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরা।

পুইগডেমন্ত ঠিক কবে ফিরবেন তা এখনও জানা না গেলেও, তাঁর সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী টনি কমিন এই সপ্তাহেই মাদ্রিদে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ওই নিষিদ্ধ গণভোটের পর স্পেন এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছিল। সে সময় পুলিশি দমন-পীড়ন চালানো হয় এবং মাদ্রিদ ওই অঞ্চলের পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ডাক দেয়। পুইগডেমন্ত বেলজিয়ামের ওয়াটারলু শহরে অবস্থানকালে তাঁর নয়জন সহকর্মী কারারুদ্ধ হয়েছিলেন, যাদের ২০২১ সালে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। রাজনৈতিকভাবে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের বামপন্থী সরকার গঠনে পুইগডেমন্তের দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যদিও কাতালোনিয়ার অভ্যন্তরে এখন তাঁর দল 'ক্যাটালান অ্যালায়েন্স'-এর মতো অতি-ডানপন্থী দলের কাছে ভোটার হারাচ্ছে।