দেশের তিনটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক—সোনালী, জনতা এবং রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সোমবার পৃথক তিনটি চিঠির মাধ্যমে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা। সরকারের এই সুপারিশের পর এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ তাদের নিয়োগের মেয়াদ বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

যাঁদের অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন—সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবর রহমান এবং রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। জানা গেছে, গতকাল রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এর আগে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে জানানো হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী এই তিন এমডির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে সরকার সম্মতি ও সুপারিশ প্রদান করেছে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক তিনটির চেয়ারম্যানদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, এমডির মেয়াদ বাতিলের সুপারিশের চিঠি তারা পেয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, পরবর্তী কর্মদিবস থেকেই বর্তমান এমডি তার পদে থাকবেন না। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত একজন জ্যেষ্ঠ উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) চলতি দায়িত্ব দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এই তিনজন এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তারা উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে সরকার এই ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন এমডি খোঁজার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে বেসরকারি খাত থেকে দক্ষ পেশাজীবীদের এসব ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সোনালী ব্যাংক ছাড়া বাকি দুটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানা গেছে।