কৃষিখাতে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৭০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেশ করা দুটি প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে সোমবারের বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়, যা পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সার সংগ্রহ করা হবে দুই উৎস থেকে। প্রথমত, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে চতুর্থ লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৫ টাকা, যেখানে প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৪০৮.৩৭৫ ডলার। দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে অষ্টম লটে ৪০ হাজার টন (১০ শতাংশ কমবেশি) বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া আমদানি করা হবে। এর জন্য নির্ধারিত বাজেট ২১৩ কোটি ২৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং প্রতি টনের মূল্য ৪৩১.৬৭ ডলার। সামগ্রিকভাবে দুটি প্রক্রিয়ায় ইউরিয়া সংগ্রহের মোট খরচ হবে প্রায় ৩৬৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

পাশাপাশি, ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের জন্য ২০ হাজার টন (১০ শতাংশ কমবেশি) ৬৮ শতাংশ পিটু ও ফাইভ-সমৃদ্ধ ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির একটি প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপিত হয়। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে গত ১৪ জুন আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আহ্বান করা এই প্রস্তাবটি আলোচনা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’-এর উন্নয়ন প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি)-র অধীনে থাকা এই মিলটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) পদ্ধতিতে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে ব্যক্তিমালিকানায় প্রতিষ্ঠিত এই মিলটি ১৯৬৮ সালে উৎপাদন শুরু করলেও ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রীয়করণ করা হয় এবং ১৯৯৭ সালে এর উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ তিন দশকের অচলাবস্থার পর এখন পিপিপি মডেলের মাধ্যমে এটি পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।