সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকায় অবস্থিত জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে দুই ছাত্র নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী তামিম আহমেদ এবং সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম) রয়েছে। তারা উভয়েই ওই মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। তামিম দক্ষিণসুরমার বড়াইকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের বিরতিতে তারা মাদ্রাসা ত্যাগ করে, যার পর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর, বৃহস্পতিবার সকালে সাঈদের বাবার ইমো অ্যাকাউন্টে একটি রহস্যময় নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তি ইমোতে কোনো ফোন নম্বর প্রকাশ করেননি। পরবর্তীতে ওইদিন সন্ধ্যার পর সাঈদের বাবাকে একটি ভিডিও কল করা হয়, যেখানে দেখা যায় তার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে একটি ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না পাঠালে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তামিম এর আগেও দুবার without অনুমতিতে বাড়ি চলে গিয়েছিল, যা তার বাবা পরবর্তীতে সমাধান করেছিলেন। তবে এবার সাঈদ ও তামিম একসঙ্গে নিখোঁজ হয়। ঘটনার পর অভিভাবক এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করলেও তাদের সন্ধান মেলেনি। অবশেষে তারা নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার তার ছেলের জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানিয়েছেন, জিডির প্রেক্ষিতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং নিখোঁজ ছাত্রদের ছবি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ইমোতে টাকা দাবির বিষয়টি নিয়ে তিনি জানান, ব্যবহৃত নম্বরটি যাচাই করে দেখা গেছে যে সেটি এক বছর ধরে বন্ধ। পুলিশের ধারণা, অনেক সময় নিখোঁজের সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র এমন কাজ করে। এছাড়া পাঠানো ভিডিওটি যথেষ্ট অস্পষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে পুলিশ সবদিক বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।




