ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচেই নিজের প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ নিলেন তাওহিদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে চাপের মুখে থেকেও অসাধারণ ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। মিরপুরে গত টেস্টে দুই ইনিংসেই আক্রমণাত্মক শটে আউট হওয়ার কারণে তাঁর টেস্ট টেম্পারমেন্ট বা ধৈর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপসহ অনেকে। তবে সিলেটের এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি সেই সব সংশয় দূর করেছেন।
টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে হৃদয় এবং ক্যারিবিয়ান পেসার জেডেন সিলসের মধ্যে এক তীব্র লড়াই চলে। প্রতি বলে তাঁকে চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও হৃদয় শান্ত থেকে ব্যাটিং চালিয়ে যান। মাঠের ভেতরে মাঝে মাঝে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিলেও তিনি তাঁর নিয়ন্ত্রণ হারাননি। ক্যারিয়ারের এই সেরা ইনিংসে তিনি কাট, ড্রাইভ, পুল এবং সুইপের মতো বিভিন্ন শটের নিখুঁত প্রদর্শনী করেন। তবে মূল লক্ষ্য ছিল বল মাটিতে রাখা এবং প্রয়োজনে শক্ত রক্ষণভাগ গড়ে তোলা।
তৃতীয় দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে লড়াই শুরু করেন হৃদয়। মুশফিক ও লিটন দাসের দ্রুত পতনের পর তিনি একা লড়াই চালিয়ে যান। পরবর্তীতে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ৪১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। মিরাজ ৮১ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পর দলের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ায় হৃদয়ের চোখেমুখে হতাশার ছাপ দেখা গিয়েছিল। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে তিনি সংকল্প করেন বাউন্ডারির মাধ্যমে রান বাড়ানোর। মিরাজের পতনের পর বাকি ১৯ রান করতে তিনি চারটি বাউন্ডারি হাঁকান।
তাইজুল ইসলাম উইকেটে আসার পর তাঁকে আগলে রেখে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক আগে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। ১০০ রানে পৌঁছানোর পর হেলমেট রেখে মৃদু হাসির মাধ্যমে উদযাপন করেন তিনি, যা গ্যালারি ও ড্রেসিংরুম থেকে ব্যাপক করতালির মাধ্যমে অভিবন্দিত হয়। ১৭১টি বলে ১টি ছক্কা এবং ১১টি চার মেরে ১০০ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি।
তবে সেঞ্চুরি করলেও দলের সামনে এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এখনো ১৫১ রানে পিছিয়ে রয়েছে এবং হাতে আছে মাত্র দুটি উইকেট (সাদমান ব্যাট করতে অক্ষম)। ম্যাচটি বাঁচাতে হলে মধ্যাহ্নভোজের পর হৃদয়ের লড়াই আরও দীর্ঘ হতে হবে।




