ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে নিজের ব্যাটিং দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করলেন তাওহিদ হৃদয়। মিরপুর টেস্টের ব্যর্থতা ও দৃষ্টিকটূ শটে আউট হয়ে যাকে দলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেই হৃদয় এবার ব্যাটের মাধ্যমেই দিলেন যোগ্য জবাব। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টেই এই সাফল্য এল তার।

শনিবারের লড়াইয়ে হৃদয়ের সেঞ্চুরির মুহূর্তটি ছিল বেশ নাটকীয়। জেডেন সিলসের বলে লেগ বাই রান নিয়ে যখন তিনি সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়, তখন ড্রেসিংরুমের সবাই উল্লাসে মেতে উঠলেও হৃদয় শান্ত ছিলেন। তবে পরবর্তী ওভারের প্রথম বলেই সিঙ্গেল নিয়ে কাঙ্ক্ষিত ১০০ রানে পৌঁছে তিনি তার চিরচেনা ভঙ্গিতে হেলমেট খুলে উদযাপন করেন এবং দলীয় প্রতীকে চুমু খান।

উল্লেখ্য, আগের টেস্টে হৃদয়ের ব্যাটিং ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে তার আউট হওয়ার ধরনটি ছিল আত্মঘাতী, যা অভিজ্ঞতার অভাব সত্ত্বেও সমালোচকদের রোষানলে ফেলেছিল। সেই গ্লানি মুছে ফেলার সুযোগ পান এই ম্যাচে, যেখানে মুমিনুল হকের অনুপস্থিতির কারণে তিনি সুযোগ পান। ভাগ্য এবং নিজের দৃঢ় সংকল্পের মিশেলে সেই সুযোগটিই তিনি সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন।

সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন ২৯ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিন শুরু করেন তিনি। তৃতীয় দিন সকালে দলের পরিস্থিতি ছিল বেশ নাজুক; মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস এবং মেহেদী হাসান মিরাজের মতো প্রধান ভরসারা খামখেয়ালি শটে দ্রুত বিদায় নেন। এমনকি হাসান মাহমুদও খুব অল্প রানে আউট হয়ে ফেরেন। সতীর্থদের এই পতনের মাঝেও হৃদয় ছিলেন অবিচল এবং আত্মবিশ্বাসী।

তার ব্যাটিংয়ের বিশেষ দিক ছিল গতির পরিবর্তন। প্রথম ৫০ রান করতে তাকে ১০৯টি বল নিতে হলেও, পরবর্তী ৫০ রান সংগ্রহ করেছেন মাত্র ৬২ বলে। লাঞ্চ বিরতির সময় তিনি ১৭১ বলে ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন, যার মধ্যে ১১টি চার এবং ক্যারিয়ারের প্রথম ছক্কার আনন্দও মিশে ছিল। তার এই একক লড়াইয়ে দলের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২০৫ রানে (৮ উইকেট)। উল্লেখ্য, সাদমান ইসলাম চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে পারছেন না, ফলে তাইজুল ইসলামের সাথে হৃদয় এখন দলের হাল ধরেছেন। মিরপুরের সমালোচনার কাঁটা কাটিয়ে সিলেটের ২২ গজে হৃদয় যেভাবে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করলেন, তা দলের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।