তৈরি পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতা এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন শিল্প মালিকেরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারা প্রয়োগ করে ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে কারখানাগুলো বন্ধ রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তারা। এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং পোশাক মালিকদের একটি প্রতিনিধিদল।
ঘণ্টাখানেক স্থায়ী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে মালিকপক্ষ তাদের উদ্বেগের কথা জানালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের আগামী রোববার পর্যন্ত ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার অনুরোধ জানান। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের পর পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হলে শিল্প মালিকেরা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিজিএমইএ কার্যালয়ে সাবেক ও বর্তমান সভাপতিদের এক বৈঠকে কারখানা বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে বিজিএমইএ সভাপতি জানান যে, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা এখনও যথেষ্ট নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার পর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারখানা বন্ধের চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে, যার ফলে চলতি সপ্তাহে নিয়মিতভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যদিও সরকার গত রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর করে জানুয়ারিতে তা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবুও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এই ঘোষণার পর গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একটি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
বিজিএমইএ-র তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে আজ সাভার, আশুলিয়া ও জামগড়া এলাকার ১৭০টি কারখানায় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া গাজীপুর ও সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের ৯১টি কারখানা গত দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আশুলিয়া কেন্দ্রিক আন্দোলনের বাইরে অন্যান্য জায়গায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।




