এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধ করার ফলে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার ১.৬৪ বিলিয়ন ডলারের এই বিল পরিশোধের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯.৯৮ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, গ্রস বা মোট হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগের দিন বুধবার বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩১.৫১ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রস হিসাবে ছিল ৩৬.৩৮ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আকুর দেনা পরিশোধের কারণে রিজার্ভে সাময়িক এই হ্রাস এসেছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, রপ্তানি আয় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের বর্তমান ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকায় খুব শীঘ্রই রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর জুলাই-আগস্ট মেয়াদের ১.৩৯ বিলিয়ন ডলার এবং ৭ জুলাই মে-জুন মেয়াদের ১.৪৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ যথাক্রমে ৩১.৪৭ বিলিয়ন এবং ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।
গত কয়েক মাস ধরে রিজার্ভের ক্ষেত্রে একটি উন্নতির ধারা লক্ষ্য করা গেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা এবং বিশ্বব্যাংকের ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার ঋণের পাশাপাশি রেমিটেন্স বৃদ্ধির ফলে গত জুনে রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেও ২ জুলাই বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩৩.০১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল।
আকুর কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, এটি এশিয়ার নয়টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। প্রতি দুই মাস অন্তর এই সদস্য দেশগুলোর আমদানি-রপ্তানি মূল্য নিষ্পত্তি করা হয়। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এই প্রক্রিয়ায় ভারত সাধারণত অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি ডলার আয় করে, যেখানে অধিকাংশ দেশকেই আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বর্তমান ২৯.৯৮ বিলিয়ন ডলারের বিপিএম-৬ রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সেপ্টেম্বর মাসের আমদানির তথ্যানুযায়ী, পণ্য আমদানিতে ৮.৪৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন।
এক সময় বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল। তবে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় এবং রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইএমএফ-এর শর্ত মেনে ২০২৩ সাল থেকে গ্রস হিসাবের পাশাপাশি বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করে রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করা শুরু হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন নিট বা প্রকৃত হিসাবও করে থাকে, যদিও তা নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না।
রিজার্ভের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি সামান্য কমলেও রেমিটেন্স ১৭.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রেমিটেন্স ১২.১০ শতাংশ এবং রপ্তানি আয় ৫.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।




