যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা প্রদান করেছে। আইআরজিসি-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি শনিবার জানান, দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকরা যদি নির্দেশ দেন, তবে তারা ইরানের ‘পারমাণবিক নীতি’ বা নিউক্লিয়ার ডকট্রিন পরিবর্তন করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। এই নির্দেশ আসার পর তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফার্স সংবাদ সংস্থার বরাতে মোহেব্বির এই বক্তব্য সামনে এসেছে, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, যেকোনো ধরনের পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে দেশটির নেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হবে।

তবে এই বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে, ইরান তাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী অবস্থান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে এসেছে। জেনারেল মোহেব্বি এমন কোনো দাবি করেননি যে তেহরান ইতিমধ্যে তাদের নীতি পরিবর্তন করেছে, এমনকি সংশোধিত নীতিটি কেমন হতে পারে সে বিষয়েও তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। বরং তার এই মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল এটি বোঝানো যে, শীর্ষ নেতাদের আদেশের অপেক্ষায় সামরিক বাহিনী প্রস্তুত থাকছে।

উল্লেখ্য, এই সতর্কবার্তার সূত্রপাত হয়েছে গত সপ্তাহের একটি ঘটনার পর। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মহসেন রেজাঈ বলেছিলেন যে, তারা পরমাণবিক নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করছেন। শনিবার মোহেব্বির বক্তব্য মূলত রেজাঈর সেই আলোচনারই একটি সম্প্রসারণ। তবে রেজাঈ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে ইরান দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে আগ্রহী নয়। ফলে আইআরজিসি-এর এই সাম্প্রতিক বক্তব্যটি মূলত একটি সতর্কতামূলক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার বাস্তব রূপ পাওয়ার কোনো নিশ্চিত নিশ্চয়তা এখনো নেই।