ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী মনে করেন, নরেন্দ্র মোদির গত ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে ভারতের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আগামী নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও গণতন্ত্রের বর্তমান স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে দীর্ঘ সময়ের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তবে তিনি আশাবাদী যে, ভারতীয় জনগণ প্রকৃত শাসনব্যবস্থায় ফিরে যেতে আগ্রহী এবং তারা এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাবেন। আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে যাওয়া তাঁর আত্মজীবনী ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’-এর আগে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’-তে এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী মোদির উত্থান প্রসঙ্গে সোনিয়া বলেন, মোদি বঞ্চিত ও অনগ্রসর সমাজ থেকে এসে বিজেপি ও আরএসএস-এর ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছেন, যা একটি ভিন্ন আদর্শগত রাজনীতির ফল। তবে আরএসএস থেকে কংগ্রেসের শেখার কিছু নেই বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে অনেক ক্ষেত্রে আপস করা প্রয়োজন হলেও বিজেপি এবং আরএসএস-এর সঙ্গে কংগ্রেস কখনোই আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। বর্তমান শাসনব্যবস্থার সমালোচনায় তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশন এবং প্রথম সারির গণমাধ্যমের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসই একমাত্র দল যা এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে বলে তিনি দাবি করেন।
ইন্দিরা গান্ধীর আমলের ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোনিয়া জানান, সাধারণ মানুষের চোখে জরুরি অবস্থা এবং সঞ্জয় গান্ধী একে অপরের পরিপূরক হয়ে গেলেও কেবল সঞ্জয়কে দায়ী করা ঠিক হবে না। 당시 ইন্দিরা গান্ধীর ওপর শীর্ষ নেতাদের প্রবল চাপ ছিল। সোনিয়া বলেন, রাজীব গান্ধী খুব কম সংখ্যক মানুষের একজন ছিলেন যিনি জরুরি অবস্থার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন এবং মাকে বারবার সতর্ক করেছিলেন, যদিও তা শোনা হয়নি। তবে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী প্রতিকারের চেষ্টা করেছিলেন এবং ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছিলেন। সোনিয়ার মতে, সেই সময় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ও সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের কারণে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ব্যক্তিগত লড়াই এবং ‘বিদেশিনি’ তকমা নিয়ে কথা বলেন সোনিয়া। তিনি জানান, শারদ পাওয়ার এবং পি এ সাংমার মতো সহকর্মীরা তাঁর বিদেশিনি পরিচয়ের দোহাই দিয়ে তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের বিরোধিতা করেছিলেন, যা তাঁকে মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত করেছিল। তবে পরবর্তীকালে আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে বৃহত্তর স্বার্থ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেন তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী না হয়ে মনমোহন সিংকে সেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে সোনিয়া বলেন, মনমোহন সিং এবং তাঁর মধ্যকার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তারা একটি টিমের মতো কাজ করেছেন, যেখানে একজন সরকারের নেতৃত্বে এবং অন্যজন দলের দায়িত্বে ছিলেন। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া পছন্দ করেননি বলে উল্লেখ করা হয়।




