দেশের পুঁজিবাজারে প্রতিষ্ঠিত ও মানসম্পন্ন কোম্পানির আগমন সহজতর করতে নতুন পথ খুলছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ বিস্তৃত করতে খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যার ওপর শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত চাওয়া হয়েছে। শুধু নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে নয়, উদ্যোক্তা বা বিদ্যমান শেয়ারধারীরাও তাঁদের অংশ বিক্রি করতে পারবেন এই ব্যবস্থায়। ফলে কোম্পানি ও উদ্যোক্তা উভয়ই উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী হয় না। আবার এমন অনেক কোম্পানি রয়েছে, যাদের তাৎক্ষণিকভাবে নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেই। তাদের জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তি একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে বলে মত দিয়েছেন শান্তা ইকুইটির প্রধান নির্বাহী রুবাইয়াত ই ফেরদৌস। তিনি জানান, প্রক্রিয়াটি নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হলে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই তালিকাভুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব। ইতিমধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন খসড়া বিধিমালায় সাত ধরনের কোম্পানির জন্য এই সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের সম্পূর্ণ বা আংশিক মালিকানাধীন কোম্পানি এবং বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ভালো ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে। বর্তমান বাস্তবতায় এ ধরনের শর্ত নির্ধারণ যৌক্তিক বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। খসড়াটি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও পুঁজিবাজারে আনার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারি সংস্থার লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলোর জন্যও রাখা হয়েছে ইতিবাচক সুযোগ।
মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রুবাইয়াত ই ফেরদৌস বলেন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সুপরিচিত ব্র্যান্ড, সুনাম ও সুশাসন আছে— এমন কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনবোধে কিছু শর্তে ছাড় দিয়ে হলেও পুঁজিবাজারে আনা উচিত। খসড়া বিধিমালায় বিএসইসিকে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তিনি। সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাঁদের শেয়ারের অংশ বিক্রি করে অর্থ পাবেন এবং সেই অর্থ নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এতে করে ভালো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পুঁজিবাজারের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন বিধিমালা নিয়ে বিএসইসি মার্চেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছে। সেখানে নিজেদের মতামত তুলে ধরার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভালো কোম্পানির বাজারে আসার পথ সহজ হবে। বাজারে যত বেশি মানসম্পন্ন কোম্পানি যুক্ত হবে, বাজারের গভীরতা ও বিনিয়োগযোগ্যতার পরিধি তত বাড়বে। বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন এই মার্চেন্ট ব্যাংকার। ভারতের শেয়ারবাজারের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, সেখানে অফার ফর সেলসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে নিয়মিত বড় কোম্পানি বাজারে যুক্ত হচ্ছে, যা বাংলাদেশেও অনুসরণীয় হতে পারে।



