সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে আসেন, তবে তাকে হাতকড়া পরিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অসহায় বৃদ্ধা গোলাপী বেগমের জন্য দেওয়া উপহারস্বরূপ ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।
শেখ হাসিনার ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে বিমানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের স্বার্থে দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে এবং এখন সেই অর্থের কোনো উপযোগিতা তারা পাচ্ছে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, শেখ হাসিনা কাল আসুক বা ৩১ ডিসেম্বর, তাকে স্বাগত জানানো হবে দুটি হাতকড়া দিয়ে। বাংলাদেশের মানুষের ওপর চালানো অমানবিক আচরণের বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে এবং সরকার সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি, শেখ হাসিনাসহ বিদেশে অবস্থানরত তার সহযোগীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে জনগণের অর্থ লুটপাটের সুষ্ঠু বিচার করা সম্ভব হয়।
বর্তমান সরকারের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন রাষ্ট্রটি ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর। এমনকি নিজের মন্ত্রণালয়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন করতেই ছয় থেকে সাত মাস সময় লেগেছে। তাই সবকিছু স্বাভাবিক করতে জনগণের ধৈর্য ও সময়ের প্রয়োজন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী নির্বাচনের আগেই দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে এবং গ্যাসের সংকটে কোনো কারখানা বন্ধ থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান। তারেক রহমানের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ যেমন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ এবং খাল খনন কর্মসূচির কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। এছাড়া সম্প্রতি চীন ও মালয়েশিয়া সফর এবং জাতিসংঘের আসন্ন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব পরিস্থিতি সামলে নিয়ে দেশটিকে সমৃদ্ধ করবেন বলে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।




