জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের আসন্ন লংমার্চকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার বা মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফটকে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের ‘স্ট্রিট মেমোরি স্টাম্প’ পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন মনে করেন, বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীজন। তাই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় তারা যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করেন, সেই আহ্বান তিনি জানান। তাঁর মতে, সহযোগিতার পরিবর্তে লংমার্চের ডাক দিয়ে আওয়ামী লীগকে সুযোগ করে দেওয়া হলে তা কোনো ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে না। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগ এই লংমার্চের সুযোগ নিয়ে নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জামায়াতকে সতর্ক করার পাশাপাশি তিনি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিদর্শক রাকিবুল হাসানের একটি বিতর্কিত অডিওর কথা উল্লেখ করেন। ওই অডিওতে রাকিবুল হাসান পুলিশ বাহিনীর দুর্বলতা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যার ফলে তাকে ডিএমপির সদরদপ্তরে সংযুক্ত করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। রাশেদ খাঁনের মতে, প্রশাসনের গভীরে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র ছয়-সাত মাসে তা পুরোপুরি নির্মূল করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত তাদের হঠকারী রাজনৈতিক আচরণের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে পুনরায় সুযোগ করে দিচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাত্র ছয় মাস অতিবাহিত হওয়া একটি সরকারের বিরুদ্ধে এই সময়েই চূড়ান্ত কর্মসূচি হিসেবে লংমার্চ করা কতটা যৌক্তিক। বিশেষ করে জামায়াতের আমিরের ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষণা এবং একই সময়ে শেখ হাসিনার ফেরার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ১৯৯৬ সালে যেভাবে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে এক হয়েছিল, বর্তমানেও তেমন কোনো গোপন ছক তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
চট্টগ্রামের লংমার্চের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, লংমার্চের নামে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে গাড়ি করে ভ্রমণ করা হচ্ছে। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, সেই নেতা আওয়ামী লীগ নেতার দামী গাড়িতে করে চট্টগ্রামে গিয়েছেন।
আগামীকাল শনিবার সকাল ৭টায় আট দফা দাবিতে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করার কথা রয়েছে ১১-দলীয় জোটের। এই প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, জামায়াতসহ জোটের দলগুলো যদি প্রকৃত জনবান্ধব হয়, তবে তারা ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে রংপুরে আসুক। লংমার্চের নামে 'লং ড্রাইভ' করে আসার মাধ্যমে উসকানি না দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির উদ্বোধনী সভা ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এবং সমাপনী সমাবেশ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।




