শরীয়তপুরে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে শহরের আমিনবাগ এলাকায় প্রেসক্লাব চত্বরে সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি বি এম ইসরাফিলের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিকের অভিযোগ, শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন সরদারের ছেলে পলাশ সরদারের নেতৃত্বে এ হামলা করা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে ফেসবুকে প্রেসক্লাব সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানান ইসরাফিল। সেই ঘটনার জের ধরেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বি এম ইসরাফিল জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশেই প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি ফোন করে জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে প্রশাসক তাকে জানান, প্রেসক্লাব সভাপতিকে জানিয়েই দেয়াল ভাঙা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তিনি ফেসবুকে লেখালেখি করলে আবুল হোসেনের ছেলে ও তার লোকজন তার ওপর আক্রমণ চালায়। তিনি আরও বলেন, কাছের অন্য সাংবাদিকেরা না থাকলে হামলাকারীরা তাকে মেরেই ফেলত।

ঘটনার পর পলাশ সরদার ঘটনাস্থল থেকে চলে যান এবং তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাবা আবুল হোসেন সরদার জানান, ফেসবুকে সমালোচনার জেরে তার ছেলে ও অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না সাংবাদিকের ওপর হামলা হবে। এ ঘটনায় আমি বিব্রত। আমার সন্তানকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে জেলা প্রশাসন প্রেসক্লাবের নামে ১৪ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেয় এবং জেলা পরিষদের অর্থায়নে সীমানাপ্রাচীর নির্মিত হয়। পাশের জমিতে ২০২৩ সালে ‘শরীয়তপুর পার্ক’ নির্মাণ করে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি প্রেসক্লাবের জমি পার্কের জন্য নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত শ্রমিকেরা তিন দিকের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন সাংবাদিকেরা। কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম সেখানে এলে সাংবাদিকেরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার প্রত্যাহার দাবি করেন।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, সাংবাদিকদের বরাদ্দ দেওয়া জমিটি ভিপি, সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না। অন্যত্র জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, ‘পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রেসক্লাবের জমি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। সীমানাপ্রাচীর ভাঙার বিষয়টি প্রেসক্লাব সভাপতিকে জানানো হয়েছিল। যেহেতু সাংবাদিকেরা জমি ছাড়তে রাজি নন, তাই আমরা আগের মতো দেয়াল নির্মাণ করে দেব।’

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তানভীর হোসেন বলেন, প্রেসক্লাবের দেয়াল ভাঙার বিষয়টি তার নজরে এসেছে, তবে সাংবাদিকের ওপর হামলার কোনো তথ্য তার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ না করলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।