রাজধানীর বনানী থানায় দায়েরকৃত অস্ত্র আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালত আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে দাখিলকৃত আবেদনের ওপর শুনানি শেষে পরবর্তী তারিখ হিসেবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন।
আদালতে উপস্থিত আসামিপক্ষের আইনজীবী সুমন হোসাইন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, তাঁর মক্কেল আনিসুল হকের নামে একটি বৈধভাবে লাইসেন্সকৃত পিস্তল ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশে সংঘটিত ব্যাপক গণ-আন্দোলনের সময় ওই অস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারিয়ে যায়। বর্তমানে সেই হারিয়ে যাওয়া নথির বিকল্প কপি বা ডুপ্লিকেট সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু এখনো সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এই কারণে চার্জ গঠন সম্পর্কিত শুনানি বিলম্বিত করার জন্য আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করা হয়েছিল, যা বিচারক বিবেচনা করে মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, আনিসুল হক বনানী থানার অধীনস্থ একটি এলাকায় তাঁর নিজের নামে নিবন্ধিত একটি পিস্তলের মালিকানা রাখেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য প্রদত্ত সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব অস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার জন্য একটি স্পষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়। কিন্তু অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, সাবেক আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত দীর্ঘ সময়কালে তাঁর লাইসেন্স করা অস্ত্রটি থানায় জমা দেননি। শুধু তাই নয়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে কোনো ধরনের অবহিতও করেননি বলে অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, তদন্তকারী দল আসামির নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি। অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের তথ্যও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তিনি কোনো গুলি ক্রয় করেছেন—এমন কোনো নথিগত প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রথমে বনানী থানার উপপরিদর্শক জানে আলম দুলাল সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট বনানী থানার উপপরিদর্শক ইয়াদুল হক আদালতে আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং বর্তমানে সেখানেই বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।




