অনেকেরই ধারণা চা পান করলে ক্যাফিনের কারণে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায় এবং পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তবে মার্কিন পুষ্টিবিদ অ্যামি শাপিরোর মতে, সাধারণ পরিমাণে চা পান করলে তা শরীরকে পানিশূন্য করে না, বরং দৈনন্দিন তরল গ্রহণের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তিনি জানান, ক্যাফিন প্রস্রাবের পরিমাণ কিছুটা বাড়ালেও চায়ের মূল উপাদান যেহেতু পানি, তাই এক কাপ চা পানের ফলে শরীরে যে তরল প্রবেশ করে তার একটি বড় অংশ পানির অভাব পূরণে ব্যবহৃত হয়। পুরনো কিছু গবেষণার ভিত্তিতে ক্যাফিনযুক্ত চা পান করলে পানিশূন্যতা হবে—এমন বিশ্বাস তৈরি হলেও বর্তমান তথ্য তা সমর্থন করে না।

তবে সব ধরনের চা একই রকম প্রভাব ফেলে না। পুষ্টিবিদের মতে, ক্যাফিনের পরিমাণ যত কম হবে, পানির চাহিদা মেটাতে সেই চা তত বেশি কার্যকর হবে। বিভিন্ন চায়ের ক্যাফিনের মাত্রায় পার্থক্য থাকে; যেমন কালো চায়ে সাধারণত ৪০ থেকে ৭০ মিলিগ্রাম ক্যাফিন থাকে, যা গ্রিন টি বা সাদা চায়ের (২০ থেকে ৪৫ মিলিগ্রাম) চেয়ে বেশি। অন্যদিকে পুদিনা, রুইবস বা ক্যামোমাইলের মতো ভেষজ চায়ে কোনো ক্যাফিন থাকে না, ফলে এগুলো আরও নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। তবে সামান্য ক্যাফিনযুক্ত চা পান করলেও তা শরীরের তরল সরবরাহে ভূমিকা রাখে, তাই একে পানির হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

এতদসত্ত্বেও, চা-কে বিশুদ্ধ পানির সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে গণ্য করা ঠিক নয়। শরীরচর্চার সময়, প্রচণ্ড গরম বা অতিরিক্ত ঘাম হলে শুধুমাত্র চায়ের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। কারণ পানি শরীরের জন্য সবচেয়ে সহজ ও সরাসরি তরল উৎস। এছাড়া চায়ের চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এতে মেশানো অতিরিক্ত চিনি, ঘন দুধ বা মিষ্টি উপাদান। বিশেষ করে দোকানের তৈরি ঠান্ডা চা বা মিশ্র পানীয়তে কোমল পানীয়র মতো প্রচুর চিনি থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাড়িতে তৈরি চা পান করা এবং চিনি নিয়ন্ত্রণ করা শ্রেয়।

ক্যাফিন গ্রহণের পরিমাণের দিকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যামি শাপিরো। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফিনের কথা বলা হলেও সবার শরীর একে একইভাবে গ্রহণ করে না। কারো কারো ক্ষেত্রে অল্প ক্যাফিনেই অনিদ্রা, হৃদস্পন্দনের বৃদ্ধি বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে রাতে চা পান এড়িয়ে চলা বা ক্যাফিনমুক্ত চা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, যারা নিরামিষভোজী অথবা যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। চায়ের ট্যানিন উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। তাই খাবারের সঙ্গে সরাসরি চা পান না করে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পান করা উচিত, যাতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে। চূড়ান্তভাবে বলা যায়, পরিমিত চা পান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং তরল সরবরাহে সহায়ক, তবে এটি কখনোই বিশুদ্ধ পানির স্থান নিতে পারে না।