কৈশোরের অল্প বয়সে গর্ভধারণ মা এবং নবজাতক—উভয়ের জন্যই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ইশাতির রাদিয়াত রানু এই বিষয়ে সতর্ক করে জানিয়েছেন, ১৫-১৬ বছর বা তার কম বয়সে মেয়েরা গর্ভধারণ, প্রসব এবং সন্তান লালন-পালনের মতো বড় দায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে না।

পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রসব পরবর্তী নানা জটিলতা নিয়ে অনেক কিশোরী মা তার কাছে এসেছেন। এসব কিশোরী মায়েদের মধ্যে সন্তান প্রতিপালন বিষয়ক জ্ঞানের চরম অভাব লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকের মতে, এই বয়সে মেয়েদের নিজেদের শরীরের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য প্রচুর পুষ্টির প্রয়োজন হয়। কিন্তু গর্ভধারণের ফলে মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়, যা থেকে রক্তশূন্যতা, কোমর ব্যথা, শরীর ও হাড়ে ব্যথার মতো নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে কিশোরীদের মনে প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। চিকিৎসক রাদিয়াত রানুর ভাষ্যমতে, অপ্রাপ্ত বয়সে মাতৃত্বের গুরুভার বহন করতে গিয়ে তারা তীব্র মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়। বয়স কম হওয়ার কারণে তারা নিজের বা সন্তানের শারীরিক সমস্যাগুলো সঠিকভাবে বুঝতে পারে না এবং তা প্রকাশ করতেও হিমশিম খায়।

মায়ের এই স্বাস্থ্যগত সমস্যার প্রভাব সরাসরি শিশুর ওপরও পড়ে। পুষ্টির ঘাটতির কারণে নবজাতক কম ওজন নিয়ে জন্ম নিতে পারে অথবা ভবিষ্যতে পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সবশেষে তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কম বয়সে গর্ভধারণের কুফল কেবল গর্ভকাল বা জন্মের মুহূর্ত পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি মা ও শিশুর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।