রাজধানীর মিরপুরে বসবাসকারী কুলসুমের জীবন সংগ্রামের গল্পটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক। শৈশবে বাবার পরিত্যক্ত হওয়ার পর তার ও তার মায়ের জীবন বদলে যায়। ময়মনসিংহ থেকে তারা ঢাকায় চলে আসেন এবং সংসারের চরম অভাব মেটাতে কুলসুমের মা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ শুরু করেন। মায়ের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও অভাবের তাড়নায় কুলসুমের পড়াশোনা মাঝপথে থেমে যায় এবং মাত্র ১১ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে যায়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে আলাপকালে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পড়াশোনার সুযোগ পেলে তিনি হয়তো আজ কোনো অফিসে চাকরি করতে পারতেন। বর্তমানে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী।

নিজের জীবনের এই অপূর্ণতা যেন সন্তানদের জীবনে না আসে, সেই লক্ষ্যেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন কুলসুম। তিনি নিজেও মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং তার স্বামী সম্পূর্ণ অশিক্ষিত। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সিদ্ধান্ত নেন যেভাবেই হোক সন্তানদের শিক্ষিত করবেন। তিনি জানান, নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে না দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফলে তার মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে করেছে এবং বর্তমানে একটি চাকরিতে নিযুক্ত রয়েছে। কুলসুমের এই লড়াই প্রমাণ করে যে, ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে পরবর্তী প্রজন্মকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনা সম্ভব।