সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক পক্ষ সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে জানান, কোনো প্রকার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি সম্পর্কে জানা যায়, ৪৩ বছর বয়সী ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ছিল। এরপর স্থানীয় একদল লোক তাকে আক্রমণ করে মারধর করে। এই নির্যাতনের পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি দ্বিতীয়বার দলবদ্ধ মারধরের শিকার হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই গণপিটুনিতে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা ছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি রাজনৈতিক সংগঠন যা আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কাউকে গণপিটুনি দিয়ে বিচারবহির্ভূত শাস্তি দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড দল সমর্থন করে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বিচার করার দায়িত্ব আইন ও আদালতের।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে দায়ী করলে আসল অপরাধীরা আড়াল হয়ে যেতে পারে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো অনভিপ্রেত বলে তিনি মনে করেন। পরিশেষে, গোলাম পরওয়ার সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা হয় এবং নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পায়। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার এবং যাচাই ছাড়াই কোনো অভিযোগ প্রচার না করার অনুরোধ জানান তিনি।




