কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় চত্বরে দলটির মহানগর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে সাময়িকভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবি পার্টির দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবি পার্টির কুমিল্লা জেলা আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা শহরের মোগলটুলী এলাকার ফারুকিয়া হাউজিংয়ে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর মহানগর কার্যালয়ে। অভিযোগ উঠেছে, দলটির মহানগর কমিটি গঠন এবং আমির নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও নেতাদের দাবি, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হক মামুনের অনুসারী কিছু কর্মী বৈঠক চলাকালীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসার পর গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়। উপস্থিত জামায়াত নেতাদের দাবি, এই ভাঙচুরে সামদানী সরাসরি অংশ নিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে সাদা কাপড় জড়ানো এক ব্যক্তি ভারী কিছু দিয়ে মাহবুবুর রহমানের গাড়ির কাচ ও অন্যান্য অংশ repeatedly আঘাত করছেন। কুমিল্লার মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল জানান, ভিডিও ফুটেজে সামদানীকে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে এবং তাঁর নিজের দলও তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছে, যার ফলে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ এই বিরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, গোলাম মোহাম্মদ সামদানী এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি তাঁর অসুস্থ বাবার সঙ্গে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে ছিলেন, কারণ তাঁর বাবা স্ট্রোক করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজের ব্যক্তির বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আটক করা হলো না কেন। ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে সামদানী বলেন, জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে তাঁকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ছাত্রশিবির করে বড় হওয়া সত্ত্বেও এখন ওই সংগঠনের লোকজনই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক ফেসবুক পোস্টে জানান, দলীয় চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বিষয়টি অবগত হয়েছেন। দলগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার দল বহন না করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামদানীকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ দেওয়া হবে। তবে এই পুরো ঘটনায় এখন পর্যন্ত কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার।