একসময় গ্রামবাংলার বাড়ির আঙিনায় অতি পরিচিত হলেও কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া স্থলপদ্ম ফুলটি এখন সাতক্ষীরার শিবপুর এলাকায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কল্যাণী মজুমদার নামের এক নারী এই দুষ্প্রাপ্য ফুলটি পরম মমতায় বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাঁর শাশুড়ি মায়ারাণী মজুমদার ভারত থেকে একটি ডাল নিয়ে এসেছিলেন, যা থেকে শুরু হয় এই গাছের বিস্তার। বর্তমানে কল্যাণী মজুমদারের বাড়ি এবং পাশের বর্ণমালা স্কুলের প্রাঙ্গণে এই অপূর্ব সুন্দর ফুলটি শোভা পাচ্ছে।
স্থলপদ্মের সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো এর রঙের পরিবর্তন। সাতক্ষীরার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার জানান, এই উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Hibicus Mutabilis’ এবং এটি জবা পরিবারের একটি বহুবর্ষী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। চীন ও তাইওয়ানের আদি এই ফুলটি সকালে সাদা বা হালকা গোলাপি থাকে, যা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়ে বিকেলের দিকে গাঢ় গোলাপি বা লালচে রঙ ধারণ করে। শরৎ ও হেমন্তকালে ফোটা এই ফুলের ঔষধি গুণ এবং সৌন্দর্যের কারণে একসময় ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সংরক্ষণের অভাবে তা বিলুপ্তির মুখে পড়েছিল।
কল্যাণী মজুমদারের এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় ফুলপ্রেমীদের মাঝে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিন অনেক মানুষ এই ফুল দেখতে ভিড় করছেন। তাঁর সন্তানও এই বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় মাকে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে, বর্ণমালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পল্লব মজুমদার মনে করেন, এই গাছটি শিক্ষার্থীদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার এক অনন্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম লিটন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, আগে এই ফুলটি প্রতিটি বাড়িতে দেখা যেত, এখন তা দুষ্প্রাপ্য। এই উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজেও গাছটি লাগাতে আগ্রহী।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থলপদ্ম গাছের পরিচর্যা খুব সহজ এবং এতে খুব বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। জলাবদ্ধতামুক্ত দোআঁশ মাটি এই গাছের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বর্ষাকালে ডাল কাটার মাধ্যমে সহজেই এর বংশবিস্তার করা সম্ভব। তবে গাছটির সঠিক বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন অন্তত চার থেকে ছয় ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলোর প্রয়োজন হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন সাহার মতে, এই গাছটি কেবল সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং এর বিশেষ ঔষধি গুণের কারণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক যত্ন নিলে বাড়ির আঙিনা বা ছাদে খুব সহজেই এই সুন্দর ফুলটি বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।




