রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উক্ত সম্মেলনে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে কি কেবল একটিই দল বিদ্যমান? তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেকের কাছেই সবার আগে বিএনপি, যেন দেশে অন্য কোনো দল বা সাধারণ জনগণের কোনো অস্তিত্ব নেই। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে মেধার চেয়ে বিএনপির দলীয় পদ থাকাই অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া। মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, সরকার অত্যন্ত দুর্নীতির সঙ্গে এই ডিলারশিপ বণ্টন করেছে এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, সরকারি দলের প্রভাবশালী এমপি এবং নেতারা অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের কোটা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন।

সারের মজুত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত নেতা। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সারের দাবি করা হলেও সংবাদপত্রের খবর এবং মাঠ পর্যায়ের বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় কৃষকরা সরাসরি গুদাম থেকে সার নিয়ে যাচ্ছেন এবং ডিলাররা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদি সত্যিই চাহিদার চেয়ে বেশি সার মজুত থাকত, তবে এই সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের কাছে ছয়টি নির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন। প্রথমত, সার ডিলার নিয়োগের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি, যোগ্যতা যাচাইয়ের মানদণ্ড এবং তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। তৃতীয়ত, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। চতুর্থত, সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে। পঞ্চমত, নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে এই অভিযোগগুলোর লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তদন্তের আপডেট জানাতে হবে। সবশেষে, তিনি দাবি করেন যেন কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করা না হয়।

এদিনের সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মুয়াযযম হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোাসাইন, নূরুল ইসলাম, সেলিম উদ্দিন এবং মতিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।