প্রযুক্তিগত উন্নতির বদলে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্যামসাংয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত স্মার্ট ফ্রিজ। সম্প্রতি কোম্পানির স্মার্ট হোম প্ল্যাটফর্ম 'স্মার্টথিংস' (SmartThings)-এর একটি ফার্মওয়্যার আপডেটের পর নির্দিষ্ট কিছু মডেলের ফ্রিজ পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। স্যামসাং মেম্বারস নামক অনলাইন কমিউনিটি ফোরামে মঙ্গলবার এবং বুধবার থেকে গ্রাহকদের অসংখ্য অভিযোগ জমা হতে শুরু করে। ব্যবহারকারীদের দাবি, আপডেটের পরপরই ফ্রিজগুলো অফলাইনে চলে গেছে; এর ফলে ভেতরের আলো জ্বলে না এবং কুলিং বা ফ্রিজিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
একজন ক্ষুব্ধ গ্রাহক জানান, কোম্পানির নির্দেশনা মেনে আপডেট করার পরই ফ্রিজটি বিকল হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, "আমার কেনা মাংসসহ সব খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বসন্তকালেই এই ফ্রিজটি কিনেছিলাম, এত দ্রুত এটি নষ্ট হয়ে যাবে তা বিশ্বাস করতে পারছি না। এর ক্ষতিপূরণ আমি কোথায় পাব এবং কবে এটি ঠিক হবে?"
বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উৎসব 'চুসোক' (Chuseok)-এর সময়ে এই ত্রুটি দেখা দিয়েছে, যখন মানুষ পূর্বপুরুষদের সম্মানে বিশেষ খাবারের প্রস্তুতি নেয়। এক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন যে, উৎসবের সময়ে খাবার নষ্ট হওয়া সত্ত্বেও পরিষেবা প্রদানকারীরা অক্টোবর ১ তারিখের আগে ফ্রিজটি মেরামত করতে পারবেন না। কোম্পানির পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে কারণ অনেক কর্মী ছুটিতে রয়েছেন। যদিও ফরচুন ম্যাগাজিনের অনুরোধে স্যামসাং সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে ফোরামের একজন মডারেটর স্বীকার করেছেন যে ২২ সেপ্টেম্বর সফটওয়্যার পরীক্ষার সময় একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যার ফলে কিছু গ্রাহকের ফ্রিজের পাওয়ার ও স্ক্রিনে অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোম্পানিটি বর্তমানে এই সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।
এই সমস্যাটি মূলত ২০২৪ সাল বা তার পরে বাজারে আসা 'বেস্পোক এআই ৪-ডোর' (Bespoke AI 4-Door) সিরিজের ফ্রিজগুলোতে দেখা দিয়েছে। ২০১৬ সালে স্যামসাং 'ফ্যামিলি হাব রেফ্রিজারেটর' চালু করেছিল যাতে সামনের ডিসপ্লের মাধ্যমে অনলাইন শপিং এবং খাদ্যের হিসাব রাখা যায়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা স্মার্ট হোম প্রযুক্তির প্রতি গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৫,০০০ মার্কিন গৃহস্থের ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৫% মানুষের কাছে অন্তত একটি স্মার্ট ডিভাইস থাকলেও এই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। এর আগে ২০২৬ সালের শুরুতে স্মার্ট ফ্রিজের স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন দেখানোর সিদ্ধান্তের কারণেও স্যামসাংয়ের ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
স্মার্ট হোম প্রযুক্তির এই ঝুঁকি কেবল হার্ডওয়্যারের ত্রুটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৩ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, সাইবারস্টকিং, হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার এবং তথ্যের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রকাশ এই প্রযুক্তির বড় ঝুঁকি। গবেষকরা মনে করেন, ডিভাইস ব্যবহারের সঠিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক করা উচিত। অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের ডিজিটাল অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবসার আরঅ্যান্ডডি প্রধান জং সেউং মুন এর আগে দাবি করেছিলেন যে, প্রতিটি যন্ত্রে ডিজিটাল স্ক্রিন যুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো গৃহস্থালি কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং একটি কেন্দ্রীয় হাবের মাধ্যমে পুরো বাড়ির পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে ব্যবহারকারীর সময় ও শ্রম বাঁচে।




