দ্রুত প্রবৃদ্ধির ধারায় চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্টার্টআপ ডিপসিকের বার্ষিক আয়ের রান রেট এখন ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। ইনফরমেশনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এই আয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। রেভিনিউ রান রেটের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান আয়ের গতি বজায় থাকলে কোম্পানিটি বছর শেষে একশ কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করবে। রয়টার্স এই তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ডিপসিক এখন শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। গত বছরই এই প্রতিষ্ঠানের এআই মডেলগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল।
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী লিয়াং ওয়েনফেং সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের সাথে এক বৈঠকে এই আশাব্যঞ্জক আয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দ্বিতীয় দফার তহবিল সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ৭৪৫ কোটি ডলার। আগামী অক্টোবরের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ইউয়ান মূল্যায়নে এই অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এছাড়া, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের 'স্টার মার্কেট'-এ নিজেদের আইপিও (IPO) আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে 'সিটিসি সিকিউরিটিজ'-কে নিয়োগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যদিও তালিকাভুক্তির চূড়ান্ত সময় বা মূল্যায়নের পরিমাণ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
আয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে তাদের মডেলগুলোর দাম ২.৩ থেকে ৪.৫ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি এবং ডিপসিক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। লিয়াং ওয়েনফেং বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, তাদের অধিকাংশ সম্পদই ব্যয় হচ্ছে নতুন মডেল তৈরির কাজে। কোম্পানির মোট কম্পিউটিং ক্ষমতার ৭০ শতাংশের বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে নতুন মডেল ট্রেনিংয়ের জন্য এবং বাকি ৩০ শতাংশের কম ব্যবহৃত হচ্ছে পুরনো মডেলগুলো পরিচালনার কাজে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে কোম্পানিটি সম্প্রতি তাদের সর্বশেষ সংস্করণ ‘ডিপসিক-ভি৪.১-ফ্ল্যাশ’ বাজারে ছেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন এই মডেলটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম, দ্রুততর ইনফারেন্স প্রদান করে এবং বড় পরিসরের মডেলে ব্যবহারের উপযোগী করে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।




