সমুদ্রের তলদেশে সূর্যের আলোর প্রবেশ অত্যন্ত সীমিত এবং গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে অন্ধকার বেড়ে যায়। এই প্রতিকূল পরিবেশ জয় করে দক্ষিণ চীন সাগরের ৩২ ফুট গভীরে সাবমেরিন সোলার সেল স্থাপন করে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরে স্থাপন করা এই সোলার প্যানেলগুলো মাত্র দুই ঘণ্টার আলো সংগ্রহ করে একটি লিথিয়াম–আয়ন ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ করার মতো শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম।

এই উদ্ভাবন সম্পর্কে ইউনান ইউনিভার্সিটির গবেষক ওয়েন–হুয়া ঝাং জানান, এর আগে সামুদ্রিক সোলার সেল নিয়ে খুব সামান্য গবেষণা করা হয়েছিল এবং সেই প্রচেষ্টাগুলো সাধারণত দুই মিটার বা তার কম গভীরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে নতুন এই প্রযুক্তিটি প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে একটানা কাজ করার সক্ষমতা রাখে। সমুদ্রের ৫ থেকে ১০ মিটার গভীরতায় মূলত নীল ও সবুজ রঙের সংক্ষিপ্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো পৌঁছায়। আলোর এই স্বল্পতাকে জয় করতে বিজ্ঞানীরা 'লিড হ্যালাইড পেরোভস্কাইট' নামক এক বিশেষ সেমিকন্ডাক্টর ক্রিস্টাল ব্যবহার করে সোলার সেলগুলো নির্মাণ করেছেন। এছাড়া কোষের ভেতরে অধিকতর ইলেকট্রন ধরে রাখার জন্য এতে 'পলিহেক্সামেথিলিন গুয়ানিডিন হাইড্রোক্লোরাইড' নামক এক ধরনের পলিমার যুক্ত করা হয়েছে।

প্রথমে গবেষণাগারে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয় এবং পরবর্তীতে রিমোট-চালিত রোবটের মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েঝো দ্বীপের উপকূলীয় গভীর পানিতে এগুলো স্থাপন করা হয়। এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের গভীরে একটি এলইডি লাইট জ্বালিয়ে এর সক্ষমতা প্রমাণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, মহাকাশ এবং স্থলভাগের পর এখন সমুদ্রের তলদেশেও সৌরশক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এই সোলার সেলের মাধ্যমে সমুদ্রের নিচে ব্যবহৃত সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা এবং বিভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল রাখা সম্ভব হবে।