হলিউডের প্রবীণ ও অস্কারজয়ী অভিনেতা মরগান ফ্রিম্যান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কণ্ঠস্বর নকল করার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিষয়টিকে স্পষ্টত 'চুরি' বলে বর্ণনা করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কণ্ঠস্বরের স্বকীয়তার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন এই অভিনেতা প্রযুক্তির এমন অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর নকল করা এবং ডিপফেইক ভিডিও তৈরির হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে ফ্রিম্যান বলেন, প্রথমনজরে বিষয়টি চমৎকার মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি একটি চুরি। তাই যারা এই প্রযুক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের আইনজীবীর শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এআই-নির্মিত কনটেন্টগুলোর প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা যে অত্যন্ত জটিল, সেই বাস্তবতাকে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।

চলচ্চিত্র জগতের পাশাপাশি ব্লুজ সংগীতের প্রসারেও এই ৮৯ বছর বয়সী অভিনেতার বিশেষ অবদান রয়েছে। মিসিসিপির ক্লার্কসডালে অবস্থিত ‘গ্রাউন্ড জিরো’ নামক একটি ব্লুজ ক্লাবের সহ-মালিক তিনি। পর্যটকদের অনুরোধে তিনি এই ক্লাবটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি ‘চিনেকি অর্কেস্ট্রা’র সঙ্গে যৌথভাবে একটি নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। এই অ্যালবামটি যদি গ্র্যামি পুরস্কার পায়, তবে সেটি তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্লুজ সংগীতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে ফ্রিম্যান বলেন, এটি মূলত বিলাপ, ব্যথা, ক্ষতি এবং আকুলতার এক বহিঃপ্রকাশ।

সংগীতের এই ধারাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই নিয়ে তিনি ২০২৫ সালের একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী হরর চলচ্চিত্র ‘সিনার্স’-এর কথা উল্লেখ করেন। ওই চলচ্চিত্রে ব্লুজ সংগীতের ব্যবহারকে তিনি একটি 'শক্তিশালী মুহূর্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বিশ্বাস করেন যে, সঠিক যত্নে এই ধারার পুনরুত্থান ঘটবেই।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ‘মিলিয়ন ডলার বেবি’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনয়ের জন্য অস্কার জয় করেছেন মরগান ফ্রিম্যান। এছাড়া ‘শশাঙ্ক রিডেম্পশন’, ‘ড্রাইভিং মিস ডেইজি’ এবং ‘ইনভিকটাস’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রে তার অভিনয় ও অনন্য ধারাভাষ্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।