দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি বা সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হতো, যেখানে কর বৃদ্ধি বা সুযোগ-সুবিধা কমানোর যেকোনো প্রস্তাব তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ত। তবে বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অবসরপ্রাপ্তদের মাসিক ভাতার পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজনৈতিক হিসাব বদলে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে ২০৩২ সালের মধ্যে বেনিফিট বা সুযোগ-সুবিধা ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
বর্তমানে শ্রমিক এবং নিয়োগকর্তা উভয়েই বছরে ১,৮৪,৫০০ ডলার পর্যন্ত আয়ের ওপর ৬.২ শতাংশ হারে কর প্রদান করেন। এই নির্দিষ্ট সীমার উপরের আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হয় না, যার ফলে উচ্চবিত্তরা নিম্নবিত্তদের তুলনায় তাদের মোট আয়ের খুব সামান্য অংশই এই তহবিলে জমা দেন। এই অসামঞ্জস্যতা দূর করতে এবং তহবিলের ঘাটতি মেটাতে এখন কর বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে।
হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির প্রভাবশালী চেয়ারম্যান রিপ্রেজেন্টেটিভ টম কোল সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন যে, তিনি করের হার এবং আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়ে খোলা মনে চিন্তা করতে প্রস্তুত। তার মতে, তহবিলটি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার পর যে সমস্যা তৈরি হবে, তা কর বাড়ানোর রাজনৈতিক সমস্যার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হবে, কারণ মানুষ তখন নিজেদের প্রতারিত মনে করবে। একই সুরে কথা বলেছেন রিপ্রেজেন্টেটিভ লয়েড কে. স্মাকার, যিনি আগামী কংগ্রেসে হাউস বাজেট কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তার মতে, আগামী ছয় বছরের মধ্যে সুযোগ-সুবিধা হ্রাস পাওয়া ঠেকাতে হলে এখন থেকেই বাস্তবসম্মত গণিত এবং জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
এদিকে, রিপাবলিকান সেনেটর বার্নি মোরেনো এবং ডেমোক্রেট সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন যৌথভাবে একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যেখানে করের সর্বোচ্চ সীমাটি সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাদের যুক্তি, একজন মধ্যবিত্ত নার্স কেন একজন ধনী কর্পোরেট আইনজীবীর চেয়ে তার বেতনের বড় অংশ কর হিসেবে দেবেন? পিটার জি. পিটারসন ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, করের এই সীমা তুলে দিলে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে। আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেট প্রার্থী জশ টুরেকও একই দাবি জানিয়েছেন, যেন ধনীরা বছরের সব দিন কর প্রদান করেন।
তবে শুধু করের সীমা তুলে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট-এর মতে, এতে তহবিলের ঘাটতির অর্ধেকমাত্র পূরণ হবে। তাই আরও রাজস্ব প্রয়োজন। সেনেটর শেলডন হোয়াইটহাউস এবং রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্রেন্ডন বয়েল একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে আয়ের সীমা ৪,০০,০০০ ডলারে উন্নীত করার পাশাপাশি বিনিয়োগের আয়ের ওপরও কর আরোপের কথা বলা হয়েছে।
অন্য এক বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন রিপাবলিকান সেনেটর বিল ক্যাসিডি এবং ডেমোক্রেট সেনেটর টিম কেন। তারা কর বা সুবিধা কমানোর বদলে শেয়ার বাজারের ওপর নির্ভর করতে চান। তাদের পরিকল্পনা হলো, ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠন করা, যা দীর্ঘমেয়াদে ট্রেজারি বন্ডের চেয়ে বেশি মুনাফা দেবে। পাশাপাশি আগামী ৭৫ বছর রাজস্ব ও সুবিধার ব্যবধান মেটাতে আরও ২৫.১ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণের প্রয়োজন হবে। তবে বোস্টন কলেজের সেন্টার ফর রিটায়ারমেন্ট রিসার্চ-এর এক সিমুলেশন রিপোর্টে এই পরিকল্পনাটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে। গবেষকদের মতে, শেয়ার বাজারের অস্থিরতার কারণে এই জুয়া সব সময় সফল নাও হতে পারে।




