মার্কিন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব জিম ক্র্যামার সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইর সাম্প্রতিক ঘোষণা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আমোদেইর নিরন্তর ঘোষণাপত্রে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে উল্লেখ করলেও, তার কিছু যুক্তি যে শেয়ারবাজারের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ তা তিনি অস্বীকার করেননি। ক্র্যামারের মতে, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রস্তাবটি কার্যকর হয়, তাহলে অসংখ্য কোম্পানির স্টকের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
তবে শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি ক্র্যামার। তিনি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছেন। তার এই পরিকল্পনায় এআই সেক্টরে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাসের কৌশল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেননি তিনি, তবে বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় সক্রিয় পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন।
ক্র্যামারের ভাষ্য অনুযায়ী, আমোদেইর প্রস্তাবিত ব্যয় কমানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী ও পার্টনার প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্বেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতিতে শুধু এআই-কেন্দ্রিক স্টক নয়, সামগ্রিক বাজারই চাপের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্লেষক মহলে এই মন্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারণ জিম ক্র্যামার দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন শেয়ারবাজারের একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। তার এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, এআই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারী মহলে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তবে ক্র্যামার নিজে হতাশ নন; বরং তিনি মনে করছেন, সঠিক কৌশল গ্রহণ করলে এই পরিবর্তনের মধ্যেও লাভের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
এদিকে, আমোদেইর ধীরগতির ইশতেহারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ও নৈতিক দিক নিয়ে উদ্বেগ থেকে উদ্ভূত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনা হলে ঝুঁকি প্রশমিত হতে পারে। কিন্তু ক্র্যামার মনে করেন, এমন উদ্যোগ বাজার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
ক্র্যামারের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও, তিনি আগে বারবার বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এবারও তিনি সম্ভবত সেই পথেই হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন, তবে সঙ্গে খাতভিত্তিক বিশ্লেষণের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। তার মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এআই খাতের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
সবমিলিয়ে, জিম ক্র্যামারের এই প্রতিক্রিয়া শেয়ারবাজারের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি যদি তার কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেন, তাহলে বিনিয়োগকারীরা তা অনুসরণ করে নিজেদের পোর্টফোলিও সাজাতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে আপাতত বাজারের দৃষ্টি থাকবে আমোদেইর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।




