২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসভবনে এক ভয়াবহ অনুপ্রবেশ ও ছুরিকাঘাতের শিকার হন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান। এই ঘটনার পর পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেলেও, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের এক মানবিক দিক প্রকাশ করেছেন তাঁর স্ত্রী কারিনা কাপুর। বারখা দত্তের ইউটিউব চ্যানেল ‘মোজো স্টোরি’-তে কারিনা জানান, তাঁদের পুত্র তৈমুর এবং স্বামী সাইফ—উভয়েই হামলাকারীকে ক্ষমা করার কথা ভাবছেন। বিশেষ করে ছোট তৈমুরই তাঁর বাবাকে অনুরোধ করেছিল যেন তিনি ওই ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেন।

তৈমুর কেন এমনটা চাইলেন, সে বিষয়ে কারিনা জানান, পুলিশের কাছ থেকে জানা গিয়েছিল যে অভিযুক্ত ব্যক্তিটি অর্থের তীব্র সংকটে ছিল। এমনকি বাড়ির ন্যানির কাছে সে দাবি করেছিল যে, তার মায়ের অস্ত্রোপচারের জন্য এক কোটি রুপির প্রয়োজন। এই করুণ পরিস্থিতি জানার পর কোমলহৃদয় তৈমুরের মনে দয়া জাগ্রত হয় এবং সে বাবাকে ক্ষমা করার কথা বলে। কারিনার মতে, পরিস্থিতির চাপে পড়ে ওই ব্যক্তি এমন কাজ করেছেন, তাই ক্ষমা করা উচিত বলে মনে করেছে তৈমুর। তবে কারিনা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঘটনায় সাইফ শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছেন, তাই ন্যায়বিচারের বিষয়টি তাঁর কাছে সহজ ছিল না।

ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত গুরুতর। ১৬ জানুয়ারি ভোরে এক অনুপ্রবেশকারী সাইফকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে, যার ফলে তিনি লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হন। মেরুদণ্ডের স্নায়ুর খুব কাছাকাছি আঘাত পাওয়ায় তিনি প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং কিছু সময়ের জন্য তাঁর পায়ে কোনো অনুভূতি ছিল না। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি হাসপাতাল থেকে মুক্তি পান। তবে সাইফ স্বীকার করেছেন যে, এখনো কোনো ছুরি দেখলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং এই ট্রমা পুরোপুরি কাটেনি। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল সংবেদনশীল স্বভাবের কারিনা কাপুরের ওপর।

সাইফ আলী খান নিজেও এই ঘটনার পেছনে অর্থনৈতিক বৈষম্যকে দায়ী করেছেন। ‘বম্বে টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান এবং টাকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠার কারণেই সম্ভবত এমন ঘটনা ঘটেছে। সাইফের বিশ্বাস, ওই ব্যক্তি তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি, বরং এটি ছিল একটি বড় ভুল। এমনকি সাইফ মনে করেন, তিনি যদি ওই ব্যক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়ে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করতেন, তবে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। বর্তমানে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শেখজাদ পুলিশি হেফাজতে থাকলেও, সাইফ চান তিনি যেন ক্ষমা পান।