বলিউড তারকা সাইফ আলী খানের ওপর ছুরিকাহামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার শরিফুল ইসলাম আদালতে দোষ স্বীকারের প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি তার প্রতি শাস্তি নির্ধারণে সদয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা পিটিআই শরিফুলের আইনজীবীর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইনজীবী বিপুল দুশিং গত শুক্রবার আদালতকে অবহিত করেন যে, তার মক্কেল অপরাধ স্বীকার করতে রাজি আছেন। এ লক্ষ্যে একটি আবেদনও দাখিল করেছেন তিনি। তবে বিচারক এখনও সেই আবেদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি; বরং সরকারপক্ষের আইনজীবীর মতামত চেয়েছেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বর।
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক জি পি দেশমুখ শরিফুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন। এর ফলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, শরিফুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফকে গুরুতর জখম করে ডাকাতির চেষ্টা এবং জোরপূর্বক তার বাড়িতে প্রবেশের ঘটনা ঘটিয়েছে। এছাড়া বিদেশি নাগরিক হিসেবে ভারতে অবস্থান ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত আইনের একাধিক ধারায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১৬ জানুয়ারি, যখন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসভবনে রাত গভীরে হামলার শিকার হন সাইফ। পুলিশ জানায়, ১২ তলা ওই ভবনে অনুপ্রবেশ করে এক ব্যক্তি অভিনেতাকে ছুরি দিয়ে বারবার আঘাত করে। সংকটজনক অবস্থায় সাইফকে লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়; তার শরীরে ছয়টি ক্ষত ছিল, যার মধ্যে মেরুদণ্ডের নিকটবর্তী একটি ক্ষত গভীর ছিল। অস্ত্রোপচারের পাঁচদিন পর তিনি বাড়ি ফেরেন।
ঘটনার তিনদিন পর ১৯ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের থানে সংলগ্ন একটি ম্যানগ্রোভ এলাকা থেকে শরিফুলকে আটক করে মুম্বাই পুলিশ। পুলিশের দাবি, শরিফুল বাংলাদেশের নাগরিক এবং সাইফের বাড়িতে হামলাকারী সেই ব্যক্তি। কিন্তু শরিফুলের আইনজীবী তখন পাল্টা দাবি তোলেন যে, তার মক্কেল বাংলাদেশি—এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ হাজির করতে পারেনি।
শরিফুলের বাবা রুহুল আমিন ফকিরও সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তি তার ছেলে হলেও সিসিটিভি ফুটেজের লোকটি শরিফুল নয়। ফুটেজে দেখা ব্যক্তির মুখের আকৃতি ও চুলের ধরন তার ছেলের সাথে মেলে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ছেলের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন এই বাবা।
হামলার পর এক সাক্ষাৎকারে সাইফ সেই ভয়াল রাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আক্রমণের সময় তার মনে হয়েছিল হয়তো তিনি আর বাঁচবেন না। সেই মুহূর্তে ছেলে তৈমুরকে পাশে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। হামলাকারীকে ক্ষমা করার প্রসঙ্গে সাইফের মন্তব্য, ‘আমি তাকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা করে দিতে চাই। কিন্তু সে যে ভাবে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, সেই স্মৃতি ভুলে যাওয়া আমার পক্ষে কঠিন।’
এদিকে সাইফ অভিনীত নতুন ছবি ‘হায়ওয়ান’ পরিচালনা করেছেন প্রিয়দর্শন, যেখানে তার সহ-অভিনেতা অক্ষয় কুমার। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ছবিটি।



