হলিউড অভিনেত্রী বিজি ফিলিপসের জীবনে গত ছয় মাস ছিল অত্যন্ত কঠিন। মস্তিষ্কের টিউমারের সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি — কোনো চরিত্রের প্রয়োজনে নয়, বাস্তব জীবনে। সম্প্রতি পিপল ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এই সময়টা তাঁর জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত ছয় মাস ছিল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, টিউমারের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ বা উপসর্গ তাঁর শরীরে দেখা দেয়নি। প্রথমে চিকিৎসকও বলেছিলেন স্ক্যান করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু নিজের ভেতরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন তিনি।

দুই বছর ধরে তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের বলতেন যে তাঁর মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করছে না। শুরুতে তিনি ধরে নিয়েছিলেন, এটি মেনোপজের আগের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবসময়ই মনে হতো মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করছে না। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর সাবেক স্বামী, চলচ্চিত্র নির্মাতা মার্ক সিলভারস্টেইন আবারও চিকিৎসার পরামর্শ দেন। তখন তিনি শরীরের এমআরআই করান। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে গ্রেড-২ অলিগোডেনড্রোগ্লিওমা — মস্তিষ্কের একটি বিরল ও ধীরে বেড়ে ওঠা টিউমার।

টিউমারের কথা শুনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। নিজের ভাষায়, 'টিউমার শোনার পর শ্বাস নিতে পারছিলাম না, দ্রুত শ্বাস নিচ্ছিলাম।' পরিস্থিতি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে কারণ তাঁর টিউমার ধরা পড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে তাঁর সহ-অভিনেতা ও বন্ধু জেমস ভ্যান ডার বিক কোলন ক্যানসারে মারা যান। কাছের বন্ধুর মৃত্যু তাঁকে ভয় পাইয়ে দিলেও তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি। বন্ধু ও সহকর্মীদের সাহসে এক মাস পরই তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়।

মার্চে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকরা তাঁর মস্তিষ্ক থেকে ২ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার আকারের একটি পিণ্ড অপসারণ করেন। মাত্র দুই দিন পরই তিনি বাড়ি ফিরে যান। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর অনুভূতি বদলে গেছে — এখন আর মস্তিষ্ক ভাঙা মনে হয় না বলে জানান তিনি। এত কিছুর পরও নিজের ভাগ্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এই অভিনেত্রী। দ্রুত টিউমার শনাক্ত হওয়া ও চিকিৎসা পাওয়াকে বড় সৌভাগ্য মনে করে তিনি প্রশ্ন করেন, 'আমি কি বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবান মেয়ে?'

৪৭ বছর বয়সী বিজি ফিলিপসের আসল নাম এলিজাবেথ ফিলিপস। ১৯৯৯ সালে অভিনয় শুরু করেন তিনি। তিন বছর পর 'ডওসনস ক্রিক' সিরিজে অড্রে লিডেল চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। পরে 'ফ্রিকস অ্যান্ড গিকস', 'কুগার টাউন', 'হোয়াইট চিকস' ও 'মেড অব অনার' — এসব কাজে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা বাড়ান। চিকিৎসা শেষে তিনি 'কুপারটিনো' সিরিজ দিয়ে শুটিংয়ে ফিরেছেন। তবে শুটিং শুরুর কিছুদিন পরই জানতে পারেন, অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে স্ট্যাফিলোকক্কাস সংক্রমণ হয়েছে। এ কারণে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে আবারও অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে।