একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা রুখে দিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ‘নায়ক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিব অভিমুখে যাওয়া ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। উড়োজাহাজটি যখন ওমানের আকাশসীমায় অবস্থান করছিল, তখন ককপিটে থাকা সহকারী পাইলট হঠাৎ ক্যাপ্টেন স্মিথকে ছুরিকাঘাত করেন। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীর মূল উদ্দেশ্য ছিল যাত্রীবোঝাই বিমানটিকে বিধ্বস্ত করা।
তীব্র রক্তাক্ত অবস্থায় এবং গুরুতর আহত হয়েও ক্যাপ্টেন স্মিথ দমে যাননি। তিনি অসীম সাহসিকতার সাথে হামলাকারীকে প্রতিহত করেন এবং দ্রুত বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক শহরের বিমানবন্দরের দিকে নিয়ে যান। একই সাথে তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন, যার ফলে বিমানের ক্রু ও যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। তাঁর এই উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা পায় এবং একটি বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
ক্যাপ্টেন স্মিথের এই বীরত্বগাথা শুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন যে, চরম বিপদের মুখে স্মিথের দৃঢ় সংকল্প ও সাহস শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু জানান, গুরুতর আহত হয়েও স্মিথ যেভাবে লড়াই করেছেন এবং ককপিটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। তিনি আরও জানান, হামলাকারী পাইলট বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পেশাগত জীবনের বিবরণীতে স্মিথ সব সময় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা লিখেছেন। বাণিজ্যিক বিমান চালনার ক্ষেত্রে তাঁর ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি মুম্বাইয়ের স্পাইসজেটে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। সেখানে তিনি জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মজার ব্যাপার হলো, স্মিথের শুরুতে পাইলট হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। তাঁর পরিবারের কাপড়ের ব্যবসা ছিল এবং তিনি সেই ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পড়াশোনার এক পর্যায়ে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর বিমান চালনার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়। যদিও শুরুতে তাঁর মা এই পেশায় আসা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কিত ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেন।
স্মিথের পরিবার বর্তমানে মুম্বাইয়ের ঘাটকপার ইস্ট এলাকায় বসবাস করেন। ঘটনার পর তাঁর বাবা-মা দ্রুত সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। উল্লেখ্য, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান দুবাইয়ে থাকেন। সৌদি আরব থেকে উদ্ধার হওয়া ওই বিমানের যাত্রীদের পরবর্তীতে নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।




