সাভারের বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও রাস্তা ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও চলমান নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে বলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমজীবী মানুষেরা নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন, কিন্তু তাদের এখন প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
গত সোমবার দুপুরে বাইপাইল মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, এক্সপ্রেসওয়ের জন্য রাস্তার কিছু অংশ খোঁড়া হয়েছে এবং সেখানে কাদা জমে আছে। সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় ঘন ঘন যানজট তৈরি হচ্ছে। বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী পর্যন্ত রাস্তার ইটের সলিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিক বাসস্ট্যান্ডের ফয়সাল মার্কেট থেকে শিমুলতলা পর্যন্ত দুই পাশে নতুন সড়কের কাজ চলছে, আবার সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ডে কার্পেটিং চলছে। নরসিংহপুর এলাকায় নির্মাণকাজের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে এক লেনে পরিণত হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে ফেলে রাখা বালুর স্তূপের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। নিশ্চিন্তপুর অংশেও ড্রেনের কাজের জন্য সড়ক সংকুচিত। ঘোষবাগের বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তায় ছোট বড় গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশ তৈরি হয়েছে, কোথাও কোথাও কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।
ভাঙাচোরা সড়কে যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলায় চালকদের চরম সমস্যা হচ্ছে। আলিফ পরিবহনের চালক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, রাস্তার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়, বিশেষ করে ব্রেক ও পাতি ভাঙার খরচ বেশি। চাকায় ইটের টুকরা ঢুকে টায়ার ফেটে যায়। পণ্যবাহী গাড়ির চালকদেরও একই অভিযোগ। কাভার্ড ভ্যানচালক মো. মামুন মিয়া বলেন, দুই-তিন বছর ধরে এই রাস্তায় চলছেন, প্রতিদিনই দামি সিরামিক পণ্য ভেঙে যাচ্ছে। সবজি ব্যবসায়ী মো. আকাশ জানান, ঝাঁকুনিতে মাল পড়ে যায়, আগে যেখানে ১৫০ টাকা ভাড়া লাগত এখন ২৫০ টাকা দিতে হচ্ছে।
শিল্পকারখানাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাইপাইল সংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টসের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক আশিকুল ইসলাম বলেন, পণ্য পরিবহনে বাধ্য হয়ে নবীনগর ও সাভারের বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে খরচ বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। দুর্গাপুর এলাকার মারুফ হোসেন জানান, আগে শিশুদের আশুলিয়ার হাসপাতালে নিতেন, এখন ধুলাবালি ও ভাঙাচোরা সড়ক এড়িয়ে সাভারে যেতে হয়।
তবে কিছু অংশে স্বস্তি মিলেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩.৭১ কিলোমিটার সার্ভিস সেতু খুলে দেওয়ায় পণ্য পরিবহনে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। ন্যাচারাল গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক রাকিবুল আহসান বলেন, কারখানার পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হয়েছে, কিন্তু কর্মচারীদের যাতায়াতে সমস্যা রয়ে গেছে। ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে মাঝেমধ্যে গর্ত আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি আশ্বাস দেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ হবে এবং যেসব অংশের কাজ শেষ হবে সেগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।




