সাভারের আমিনবাজার এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো স্পেশাল ব্রাঞ্চের উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেনের হত্যার সাথে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত আটকের নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের সাথে বৈঠকে বসেন তিনি। ওই সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা প্রদান করেন মন্ত্রী। বৈঠকে শোকাহত পরিবারটিকে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার ব্যাপারে পূর্ণ আশ্বাসও দেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, নিহতের পরিবারের কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ছয় লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আলতাফ হোসেনের পারিবারিক ব্যবসা চালু রাখতে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ঋণসহ নানা ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তার কর্মজীবনের সাহসিকতা ও নৈতিক আচরণের স্বীকৃতি হিসেবে মরণোত্তর পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদানের নির্দেশনাও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় অটোরিকশা পার্কিং নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। সেখানে শান্তি রাখতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে হামলা চালায়। বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় আলতাফ হোসেনের স্ত্রী শিউলী পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আলতাফ হোসেন। দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকার এসবি বিভাগে কর্মরত ছিলেন।




