ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতদের সংখ্যা এবং পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের তীব্র সমালোচনা করেছে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা এবং হতাহতের প্রকৃত তথ্য গোপন করার চেষ্টার প্রতিবাদে সংগঠনটি এই কর্মসূচি পালন করে, যেখানে সাধারণ মানুষসহ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ অভিযোগ করেন, অগ্নিকাণ্ডের পর বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন যে কেউ হতাহত হননি। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে হতাহতের খবর প্রকাশিত হয়। প্রশাসনের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সত্য গোপন করার এবং ভুল তথ্য পরিবেশনের নৈতিক দায়ভার হিসেবে তিনি বিভাগীয় কমিশনার, হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে অবিলম্বে ময়মনসিংহ থেকে অপসারণের দাবি জানান।
সংগঠনটি নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসার দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যমান সকল অব্যবস্থাপনা দ্রুত দূর করার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনের অন্য একজন সংগঠক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, হাসপাতালের দীর্ঘদিনের দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তিনি জানান, আগেও এখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও এবার তা অত্যন্ত গুরুতর রূপ নিয়েছে। হতাহতের তথ্য নিয়ে কর্তৃপক্ষের মিথ্যাচারের জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন এবং দাবি না মানলে বৃহত্তর গণআন্দোলনের কথা জানান।
ঘটনার তদন্তে হাসপাতাল প্রশাসন গত মঙ্গলবার একটি কমিটি গঠন করলেও তা বাতিল করে গতকাল ছয় সদস্যের নতুন একটি কমিটি করা হয়, যাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাঁচ সদস্যের একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের পাঁচ কার্যদিবসের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’ এই প্রশাসনিক কমিটিগুলো বাতিল করে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটের বাইরের আবরণে আগুন ধরেছিল। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, আতঙ্কে রোগী ও স্বজনরা সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হন। যদিও চারজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, তবে প্রশাসন তা নাকচ করে আসছিল। তবে ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ বুধবার পরিদর্শনে গিয়ে জানান, চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিক মৃত্যু এবং দুজন আতঙ্কের কারণে মারা গেছেন।




