কিশোরগঞ্জ জেলায় এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। বেসরকারি সংস্থা ‘বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি’-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যবর্তী সময়ে ৮ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের প্রত্যেকের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই পুরুষ।

সংস্থাটির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৬ বছর ৮ মাসে কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ২৫ জন এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকায় ২২ জন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের অধীনে ৩ জন আক্রান্ত। চলতি বছরের ৮ জন আক্রান্তের মধ্যে ৫ জন ভৈরব এবং ৩ জন কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের অধীনে থাকা উপজেলা থেকে পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই জেলায় কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে এর পরবর্তী সময়ে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। যাদের পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই নেশাসক্ত ব্যক্তি, হকার এবং যানবাহনের চালক।

গত ১০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সাইদুর রহমান। জেলার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, এই তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দ্রুত কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, এই বিষয়ে পরীক্ষার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে হবে এবং প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

বর্তমানে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির ভৈরব কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, শনাক্ত হওয়া ২৫ জনের মধ্যে ২ জন প্রবাসে চলে যাওয়ায় চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন, বাকিরা অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) নিচ্ছেন। এছাড়া আক্রান্তদের রক্ত আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কিশোর কুমার ধর এই প্রতিবেদনের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবনযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

한편, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন এবং এই সময়ে দেশে ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে কিশোরগঞ্জ জেলায় বন্ধু ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি কাজ করছে, যার দুটি কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৩টি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা তদারকি করা হয়।