সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত মোট আটটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলাগুলোর আওতায় ইতিমধ্যে ৩০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের কারখানার সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। তিনি জানান, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও শ্রমিকদের প্ররোচিত করার অভিযোগে আশুলিয়া থানায় ছয়টি এবং সাভার মডেল থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু মামলা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েনসহ সার্বিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান পরিস্থিতি এবং নতুন করে কোনো বিক্ষোভের সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে ফ্যাক্টরিগুলো নিরাপদ পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। আশুলিয়া, সাভার ও ধামরাইয়ের শ্রমিকরাও নিরাপদে কাজ করছেন, তবে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডম এলাকার অল্প কিছু কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে, যার ফলে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে গেছেন।

আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিষয়ে ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন। তিনি বলেন, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর থেকে এ পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের কেউ পোশাক শ্রমিক নন। বরং তারা বিভিন্ন বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে আসা নৈরাজ্যকারী ও ফ্যাসিস্ট গ্রুপের সদস্য, যারা সমাজের শান্তি নষ্ট করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, শ্রমিকরা কারখানায় উপস্থিত হয়ে কাজ না করে বেরিয়ে যাওয়ায় সাভার ও আশুলিয়া মিলিয়ে শতাধিক পোশাক কারখানায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে ধীরে ধীরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসছে।