মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ওই তরুণী নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজের পরদিন সকালে এক প্রতিবেশীর বাগানে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবার করা মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে দুর্বৃত্তরা তাঁর মেয়েকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

নিহত তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি শৈশব থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাইরের মানুষের সাথে খুব একটা মেলামেশা করতেন না। তাঁর মা নারগিস বেগম শোকাতুর হৃদয়ে জানান, তাঁর মেয়ে ছিল অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং বুদ্ধিসুদ্ধি কম ছিল। এমন নৃশংস ঘটনার জন্য তিনি কঠোর বিচারের দাবি জানিয়েছেন। রিকশাচালক বাবা অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে জানান যে, তাঁর কারও সাথে কোনো শত্রুতা নেই এবং তিনি সাধারণ জীবনযাপন করেন, তবুও কেন তাঁর মেয়ের সাথে এমন আচরণ করা হলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর মাগরিবের আজানের পর তরুণীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করার পর পরদিন এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরই মাঝে প্রতিবেশীর বাগানে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন। উদ্ধার 당시 দেখা যায়, তাঁর গলায় ওড়না দিয়ে শক্ত করে ফাঁস দেওয়া ছিল এবং পরনের পোশাক এলোমেলো অবস্থায় ছিল। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম প্রাথমিক তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছেন, তরুণীকে ধর্ষণ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। এই অপরাধে একজন বা একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তৎপরতা চলছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, ওই এলাকায় আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি। তিনি এই ঘৃণ্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ব্যক্ত করেছেন।