জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক তথ্য উপদেষ্টা এবং ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা চৌধুরী এই খবরের নিশ্চিত করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মোহাম্মদ আমীর হোসেন তাকে আটক রাখার আবেদন জানান।

আদালতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী চৌধুরী মো. গালিব রাগীব জামিন আবেদন না করলেও তার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, তার মক্কেল একজন সিনিয়র সাংবাদিক এবং ডিবিসি নিউজের সিইও। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং নিউরোলজিক্যাল সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে কারাগারে বিশেষ ডিভিশন এবং উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। এছাড়া তার তথ্য উপদেষ্টার পদের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ছিল বলে দাবি করেন আইনজীবী, যেন জেলকোড অনুযায়ী সেই সুবিধা দেওয়া হয়। তবে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এই দাবির বিরোধিতা করে বলেন, তথ্য উপদেষ্টার পদের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক আদালতে অভিযোগ করেন যে, ইকবাল সোবহান চৌধুরী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুশি করে ডিবিসির মালিকানা এবং তথ্য উপদেষ্টার পদ লাভ করেন। এই প্রভাব ব্যবহার করে তিনি মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন টেলিভিশনের লাইসেন্স দেওয়ার কাজ করেছেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের কথা যেন গণমাধ্যমে প্রচার না হয়, সে বিষয়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নেন এবং মোজাম্মেল হক বাবুসহ একটি সংগঠন গঠন করে টেলিভিশনগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান। এর মাধ্যমে তিনি গুলশান-বনানী এলাকায় প্রচুর সম্পদ অর্জন করেন এবং সরকারের পতনের পর আত্মগোপন করেন।

এর আগে বুধবার দুপুরে মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে তাকে এবং প্রধান অপরাধ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকে আটক করে পুলিশ। ডিএমপির ডিসি আকতার হোসেন শুরুতে জানিয়েছিলেন, একটি সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে রাতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আরিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্যদিকে, বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকার বিনিময়ে মুক্তি দেওয়ার কথা জানান ডিএমপি গোয়েন্দাপ্রধান শফিকুল ইসলাম।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাযিল মাদরাসার প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফ গুরুতর আহত হন। চোখে গুলি লাগার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নির্মম ঘটনার প্রেক্ষিতে আরিফের বাবা ইউসুফ ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন, যেখানে ৫৩ নম্বর আসামি হিসেবে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।