বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পর্যটন বা কালচারাল ট্যুরিজমের সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সমন্বয়ে পর্যটন খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বিশেষ বৈঠকটি আয়োজিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

পর্যটন খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, পর্যটন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্প এবং এর সাথে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি)-তে পর্যটন খাতের অবদান ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে। তবে সরকারের লক্ষ্য এই অবদান বাড়িয়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে, যার মাধ্যমে পরবর্তীতে একটি অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করা হবে এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনকে এগিয়ে নিতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যের দেশ। সরকার এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দিতে আগ্রহী। তাই দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে ৫৫৪টি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নবগঠিত টাস্কফোর্স পর্যায়ক্রমে এই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিমানবন্দরে 'নজরুল বর্ষ'-এর প্রচারণার প্রস্তাব দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এই প্রস্তাবের বিষয়ে পর্যটনমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। উক্ত সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।