আগামীকাল মঙ্গলবার সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম ও কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নাম অতিথি হিসেবে ছাপা হয়েছে। তার দপ্তর থেকে প্রেরিত প্রাথমিক সফরসূচিতেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই সময়সূচি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। পরিমার্জিত সূচি অনুযায়ী, মন্ত্রী সিলেটে এলেও সিউকের ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না। এই পরিবর্তনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে বিএনপির ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির একাধিক সূত্রের দাবি, উদ্বোধনী আয়োজনে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেই তিনি সেখানে যাচ্ছেন না। এর ফলে আবারও সামনে এসেছে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে দীর্ঘদিনের ‘রাজনৈতিক দূরত্বের’ প্রসঙ্গ। যদিও মন্ত্রী নিজে বলেছেন, ‘আগামীকাল সকালে ঢাকায় আমার একটি জরুরি কর্মসূচি আছে। সেটা শেষ করে সিলেটে আসব। এরপর সুনামগঞ্জে নিরাপদ অভিবাসন-বিষয়ক একটি জরুরি মতবিনিময় সভা রয়েছে। দূরের জেলা হওয়ায় সেখানে যেতে হলে সিউকের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। এটাই একমাত্র কারণ, এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার প্রয়োজন নেই।’ সিউকের আমন্ত্রণপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে মঙ্গলবার বেলা ১টায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সভাপতিত্ব করবেন সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এছাড়াও আমন্ত্রণপত্রে নাম না থাকলেও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ মালিক, এমরান আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গত রোববার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মন্ত্রীর একান্ত সচিব বিজন কুমার সিংহের সই করা একটি সফরসূচি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে সিউকের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। রাত ৯টা ৫ মিনিটে পাঠানো সংশোধিত সূচি থেকে সেই অংশটি বাদ পড়ে যায়। স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, দলটির সিলেট শাখায় বাইরে থেকে কোনো বিভেদ চোখে না পড়লেও আড়ালে মুক্তাদির ও আরিফুলের দুটি পৃথক বলয় কাজ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নিতে উভয় পক্ষই সক্রিয় ছিল। বর্তমানে উভয়েই সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হওয়ায় তাদের মধ্যে ‘মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব’ বেড়েছে এবং ‘ঠান্ডা লড়াই’ অব্যাহত রয়েছে। গত নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে মনোনয়ন পান মুক্তাদির। আরিফুলকে সিলেট-৪ আসনে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই আধিপত্য বিস্তারে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। এদিকে, সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, যিনি মুক্তাদিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত, তিনি জানান, ‘ওনাকে যথাযথ সম্মান ও প্রটোকল দিয়েই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি নিজে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দাওয়াত দিয়েছি। সফরসূচি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তিনি ফোন করে জানিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানে থাকবেন। পরবর্তীতে সূচি বদলেছে কি না, তা আমার অজানা। আমি এখনো মনে করছি, তিনি আসবেন।’