রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার চান মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দারা গত প্রায় এক মাস ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে পড়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে একবারও গ্যাসের সঠিক সরবরাহ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শুরুর দিকে খুব সামান্য সময়ের জন্য গ্যাসের দেখা মিললেও, বর্তমানে সংযোগটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। ফলে প্রতিদিনের রান্নাবান্নার কাজ অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকার বাসিন্দা কাজী তাহমিদা আফরোজ জানান, প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া গেলে কোনোমতে কাজ চালানো যেত, কিন্তু বর্তমানে চুলা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় তাদের কোনো আশাই নেই। একইভাবে মোস্তফা নাজমুল হাসান নামের এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে এলাকায় গ্যাস নেই, সেখানে প্রিপেইড মিটারের বিল বা লাইনের গ্যাস বিল মকুফ করা উচিত। গ্যাসের এই বৈষম্যমূলক বণ্টন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তিনি মনে করেন।
গ্যাস সংকটের হাত থেকে বাঁচতে অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সেখানেও তাদের শান্তি মেলেনি; কারণ লোডশেডিংয়ের কারণে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন এক সমস্যা। রাসেল দাস নামে একজন চাকরিজীবী জানান, গ্যাসের সমাধান খুঁজতে বৈদ্যুতিক চুলা কিনলেও রান্না চলাকালীন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তিনি নতুন করে সমস্যায় পড়েছেন। মোস্তফা নাজমুল হাসান জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্না করা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অথচ বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে তাকে। তিনি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি বা শিডিউলের দাবি জানান এবং সরকারের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেন যাতে তারা অন্তত সাধারণ খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারেন।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই সংকট কেবল মোহাম্মদপুরেই নয়, বরং রাজধানীর কলাবাগান, কাফরুল, কাজীপাড়া, বাড্ডা এবং পশ্চিম তেজতুরী বাজারের মতো আরও অনেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্থানে খুব সামান্য সময়ের জন্য গ্যাস এলেও অধিকাংশ জায়গায় সারাদিন চুলা জ্বলছে না। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হওয়ার আগেই সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নাগরিকরা।



