সংগীতের জগতে সৃজনশীলতার মূল ভিত্তি হলো তার ক্রমাগত বিবর্তন। সংগীতশিল্পীরা প্রতিনিয়ত তাদের সুর ও কম্পোজিশনের মাধ্যমে নতুন নতুন শব্দ এবং শৈলীর সন্ধান করেন, যা সংগীতকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তবে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে সংগীত তৈরির যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দ্বারা তৈরি সংগীত আসলে কোনো মৌলিক সৃজনশীলতা নয়, বরং এটি একটি গাণিতিক প্রক্রিয়া। এআই যা কিছু তৈরি করে, তা মূলত অতীতে যা করা হয়েছে তার একটি গাণিতিক বিশ্লেষণ মাত্র। এটি বিদ্যমান ডেটা বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, যার ফলে এটি কেবল পুরনো ধাঁচকেই পুনরাবৃত্তি করে। এর ফলে সংগীতের যে স্বাভাবিক বিবর্তন ঘটে, এআই যেন সেটিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির বা ফ্রিজ করে দিচ্ছে।
সংগীতশিল্পীরা যখন নতুন কোনো শব্দের খোঁজ করেন, তখন তারা প্রথাগত সীমানা ভেঙে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এআই-এর কাজ করার পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি অতীতের রেকর্ড করা সংগীতে কী প্যাটার্ন ছিল তা বিশ্লেষণ করে তার অনুরূপ কিছু তৈরি করে। সহজ কথায়, এআই সামনের দিকে তাকানোর বদলে পেছনের দিকে তাকিয়ে গাণিতিক হিসাব করে সংগীত তৈরি করছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে সংগীতের নতুন নতুন ধারার জন্ম নেওয়া এবং সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, কারণ এআই কেবল পরিচিত ছক অনুসরণ করতে অভ্যস্ত।


