সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির অকাল প্রয়াণকে কেবল একটি ব্যক্তিগত শোক হিসেবে না দেখে, একে সাংবাদিকতা পেশার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও সংকটের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন। বৃহস্পতিবার বরিশালের পূর্ব মল্লিক রোডে সরকারি বরিশাল কলেজের সংলগ্ন পুলক চ্যাটার্জির বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান তিনি। এই আলাপচারিতার সময় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, পুলক চ্যাটার্জির প্রস্থান আমাদের গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে এবং এই ধরনের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা এখন সময়ের দাবি।

পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী নিলোৎপলা চ্যাটার্জি প্রিয়াংকা এবং কন্যা প্রকৃতি চ্যাটার্জির সাথে কথা বলে তাদের খোঁজ-খবর নেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, পুলক চ্যাটার্জি তার জীবন ও পরিবারের ত্যাগের মাধ্যমে এই পেশার চ্যালেঞ্জগুলো সামনে রেখে গেছেন। ব্যক্তিগতভাবে পুলক চ্যাটার্জির সঙ্গে তার অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তাকে একজন অত্যন্ত রুচিশীল ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।

পেশাগত উৎকর্ষ ও সাংবাদিকদের অধিকার প্রসঙ্গে জহির উদ্দীন স্বপন জানান, তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সাংবাদিকতার অভ্যন্তরীণ জটিলতাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের মালিকপক্ষের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করে একটি ওয়েজ বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার কাজ ইতিমধ্যে কিছুটা অগ্রসর হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সৎ সাংবাদিকরা সমাজের প্রকৃত সম্পদ। যদিও এই পেশায় এসে খুব বেশি বিত্তবান হওয়া সম্ভব নয়, তবে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করে সম্মানের সাথে জীবনযাপন করা এবং নিজেকে মর্যাদাবান করে তোলাই এই পেশার সার্থকতা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সচেতনতার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তথ্য কমিশন এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এসব নীতিগত বিষয়কে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।

শোকসমিত এই অনুষ্ঠানে জহির উদ্দীন স্বপনের সাথে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির, সাবেক সহসম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন এবং বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সুশান্ত ঘোষ।