রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং লেকগুলোর দূষণ কমিয়ে আনতে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এই বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

বৈঠকে মূলত গুলশান, বনানী, নিকেতন, বারিধারা এবং ধানমন্ডি—এই পাঁচটি লেকের বর্তমান পরিস্থিতি, দূষণের প্রধান উৎস এবং সেগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয় এবং নিয়মিতভাবে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে তাদের তৎপরতা আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ধানমন্ডি লেকের সংস্কার কাজ, স্লাজ অপসারণ এবং চলমান পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে যে, লেকগুলোর দূষণ রোধ করতে হলে ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বর্তমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের একটি বিস্তারিত জরিপ করা অপরিহার্য। এছাড়া গুলশান-বনানী এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ক্যাচমেন্ট এরিয়া তৈরি এবং শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায়ের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, গুলশান লেকের ভেতরে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের জন্য ছয়টি প্রধান এবং আরও ছয়টি ছোট স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমেই দূষিত পানি লেকে মিশছে। এই জটিল সমস্যা সমাধানে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যারা প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী কিছু কার্যকর সুপারিশ পেশ করেছে।

উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গণপূর্ত ও গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সালাম সাত্তার এবং স্থানীয় সরকার সচিব শহিদুল হাসানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।