নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের যে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, তারা এখন সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে আটজনকে বৃহস্পতিবার সকালে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাকি তিনজনকে দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বিকালে আরও দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদেরও হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে গত ১০ দিনের মধ্যে ওই বিদ্যালয় থেকে মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর ১৬ জন এবং ১৪ সেপ্টেম্বর ২১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। বুধবার দুই দফায় ১১ জন অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। বারবার একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, হাতিয়া উপজেলা প্রশাসনও এ ঘটনার তদন্তে আগেই একটি কমিটি গঠন করেছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার কারণ নিয়ে কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণ অবশ্য ভিন্ন। ৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর কৃষি বিভাগের তদন্তে বলা হয়েছিল, বিদ্যালয়ের পাশের জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বাতাসে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। তবে সিভিল সার্জন জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, শিক্ষার্থীরা ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’তে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হচ্ছে। সোমবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া এক শিক্ষার্থীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও অসুস্থতার অন্য কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।