চিকিৎসা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার বাড়লেও এটি কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসকের বিকল্প হতে পারে না। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিষয়ক জটিল প্রশ্নে চ্যাটবটগুলোর দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে চিকিৎসা জার্নাল 'বিএমজে ওপেন'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় পাঁচটি জনপ্রিয় চ্যাটবটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, এআই-এর দেওয়া প্রায় অর্ধেক উত্তরই ছিল সমস্যাজনক এবং প্রায় ২০ শতাংশ উত্তর ছিল অত্যন্ত গুরুতর ভুল।
একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে; ধরা যাক, একজন ব্যক্তি গভীর রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করে চিকিৎসকের পরিবর্তে এআই-এর পরামর্শ নিলেন। এআই যদি সেই ব্যথাকে সাধারণ 'গ্যাসের সমস্যা' হিসেবে চিহ্নিত করে, তবে রোগী নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বুকের ব্যথা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এর পেছনে হৃদরোগের মতো মারাত্মক কারণ থাকতে পারে। এআই-এর এই সীমাবদ্ধতার মূল কারণ হলো, এটি রোগীকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ বা শারীরিক পরীক্ষা করতে পারে না; বরং ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেবল অনুমান করতে পারে।
এ বিষয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেব্রুয়ারিতে করা আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটবটের সাহায্যে সাধারণ মানুষ তাদের শারীরিক সমস্যা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এআই সম্পূর্ণ অকেজো। রোগ বা নির্দিষ্ট ওষুধ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিতে কিংবা চিকিৎসকের সাথে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নের তালিকা তৈরি করতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা বুকে ব্যথার মতো জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মূল কথা হলো, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানা এবং কোথায় এর ওপর ভরসা করা উচিত আর কোথায় নয়, সেই বোধ থাকা অত্যন্ত জরুরি।




