বান্দরবানের নিজস্ব রিসোর্টে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যসিং মারমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর তাকে আদালতের নির্দেশনায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বান্দরবান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে একজন মারমা নারী এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত শৈক্যসিং মারমা (৫৫) বান্দরবান সদর উপজেলার মধ্যমপাড়ার resident এবং মংশৈপ্রু মারমার পুত্র।

মামলার এজাহারে উল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর পাঁচ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছিল এবং তিনি তার ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে শহরে বসবাস করছিলেন। এই সময়ে দূর সম্পর্কের আত্মীয় শৈক্যসিং মারমা তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত পাঁচ মাস ধরে বান্দরবান শিশু পার্কের समीप অবস্থিত তার পরিচালিত ‘সাইনি রিসোর্টে’ ওই নারীকে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনার দিন অর্থাৎ শুক্রবার ওই নারীকে রিসোর্টে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর তারা একত্রে মধ্যাহ্নভোজন করেন। পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিয়ের কথা উঠলে শৈক্যসিং মারমা বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই তিনি ওই নারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। এই ঘটনায় দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয়। চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ যখন রিসোর্টে ছুটে আসেন, তখন শৈক্যসিং ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জেলা এনসিপি আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, দলের জেলা যুগ্ম আহ্বায়কের এমন কর্মকাণ্ডে জেলা কমিটি অত্যন্ত বিভ্রান্ত। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে শৈক্যসিং মারমাকে মধ্যমপাড়ার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।