মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কান্ঠাপাড়া বাজারে এক মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম। আক্রান্ত ব্যক্তি কৃষ্ণ কুমার রায়, যিনি কান্ঠাপাড়া বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্থানীয় বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বীরেন কুমারের পুত্র এবং ওই বাজারে তার একটি গ্রিল ওয়ার্কশপ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় বাজারের একটি কাঠের দোকানের সামনের কাঁঠালগাছে মণ্ডপের জেনারেটরের ক্যাবল পেঁচিয়ে রাখা নিয়ে। এই বিষয়ে দোকানদার কবির আপত্তি জানালে কৃষ্ণ কুমারের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, বিতর্কের এক পর্যায়ে কৃষ্ণ কবিরকে ঘুষি মারেন। পরবর্তীতে বাজারের ব্যবসায়ীরা বিকেলবেলা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করার প্রস্তাব দেন। তবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কিছু সময় পরেই কৃষ্ণের দোকানে গিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কৃষ্ণের পাশাপাশি দোকান চালানো এলেম কাজী জানান, বহলাতলী এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি লোহার রড এবং কাঠ ব্যবহার করে কৃষ্ণকে মারধর করেন। পরে তিনি আরও কয়েকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। অন্যদিকে, হরিরামপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ওষুধ ব্যবসায়ী স্বপন কুমার রায় জানান, ক্যাবল রাখা নিয়ে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটি এবং কৃষ্ণের ঘুষি মারার ঘটনার পর তাকে মারধর করা হয়েছে, তবে হামলাকারীদের সঠিক পরিচয় তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
আহত কৃষ্ণ কুমার রায়কে দ্রুত হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিমেষ জানান, কৃষ্ণের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় সেখানে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে কান্ঠাপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মিরাজ মেম্বার প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। হরিরামপুর থানার ওসি জেওএম তৌফিক আজম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই এসআই জয়নাল আবেদিনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এসআই জয়নাল আবেদিন সেখানে অবস্থান করে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




