ওমান ক্রিকেট একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় যুব ওয়ানডে ম্যাচে নাটকীয় সমীকরণের মুখে পড়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৫ রান প্রয়োজন ছিল। রুবাই ইসলাম রিজন যখন স্ট্রাইক পেলেন, তখন ৪ বলে দরকার ছিল ১৪ রান। শুরুতেই বাউন্ডারি মেরে দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন তিনি। পঞ্চম বলে একটি ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ এক বলে ২ রানে নামিয়ে আনেন রিজন। শেষ বলে যদিও ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি, তবে প্রান্ত বদল করে দুই দলের স্কোর সমান করেন তিনি। ফলে ৩০৪ রানে ম্যাচটি টাই হয়।

ব্যাটিংয়ে রিজন ১৯ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৩ রানের একটি অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে কেবল ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও তিনি ছিলেন কার্যকর; ৯ ওভারে ৭২ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। এর আগে বাংলাদেশ দলের শুরুটা ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রথম পাওয়ার প্লেতে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৭০ রান সংগ্রহ করে তারা। আবদুল্লাহ আল মুহি ৪৫ বলে ৫০ রান করেন। এরপর আল আমিন হোসেন রনি ও আহসান আল মুমিনের জুটিতে ৮০ রান যোগ হয়। আল আমিন ৫৬ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭১ রান এবং আহসান ৬৬ বলে ৫৬ রান করেন। তবে মিডল অর্ডারে অধিনায়ক ফরিদ হাসান, রাকিবুল হাসান ও রবিউল ইসলাম অনিক দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

অন্যদিকে, আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল তাদের ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩০৪ রান সংগ্রহ করে, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে যুব ওয়ানডেতে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর। তাদের হয়ে নোমান সালারজাই সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন। এছাড়া ফারিদউল্লাহ ইহসাস ৫১, তাহির সারওয়ারি ৪৩ এবং আমির হামজা ২১ রান করেন। আফগানদের এই বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ প্রায় জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাই-তেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। ম্যাচটি জিতলে ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৪ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ত বাংলাদেশ।

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল তৃতীয় পাওয়ার প্লে। শেষ ১০ ওভারে স্বাগতিক আফগানরা ৯১ রান করলেও, বাংলাদেশ সেই গতিতে ব্যাটিং করতে পারেনি। তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচে রিজনের বোলিংয়ে জয়ী বাংলাদেশ এখন চার ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। আগামী বুধবার একই মাঠে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে।